সাভারে কিশোরকে তুলে নিয়ে নির্যাতন, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
ম্যাপ
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬ | ০১:০০
সাভার পৌর এলাকার রাজাশন মহল্লায় রিপন দাস (১৫) নামে এক কিশোরকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরের বিরুদ্ধে। এতে ভুক্তভোগী কিশোরের চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। ওই কিশোর বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় নির্যাতিত কিশোরের বোনজামাই স্বপন চন্দ্র সূত্রধর গত বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্রদল নেতা মাহাবুব হোসেন সামিরকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখসহ ৫ থেকে ৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এদিকে এ ঘটনার পর গতকাল শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা জেলা উত্তরের অধীনস্থ সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন সামিরকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির এই অব্যাহতি আদেশ অনুমোদন করেছেন বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।
সাভার মডেল থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মে বিকেলে সাভারের মধ্য রাজাশনের পালোয়ানপাড়া এলাকায় সমবয়সী কয়েকজনের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল কিশোর রিপন। এ সময় স্থানীয় অপর এক কিশোরের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ধাক্কা লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে ওই কিশোরের বড় ভাই হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল নেতা মাহাবুব হোসেন সামির ক্ষুব্ধ হয়ে রিপনকে খুঁজে বের করার জন্য তার সহযোগীদের নির্দেশ দেন।
এর ধারাবাহিকতায় গত ২ জুন বিকেল ৪টার দিকে রাজাশন পালোয়ানপাড়া এলাকায় রাজধানী বেকারির সামনে থেকে রিপনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে সামিরের ব্যক্তিগত অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাকে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, মারধরের একপর্যায়ে রিপন অচেতন হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
লিখিত অভিযোগে মাহাবুব হোসেন সামির ছাড়াও তার সহযোগী মানিক, সজিব এবং আলাউদ্দিন ওরফে আলমগীরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ, অবৈধভাবে আটকে রাখা, গুরুতর শারীরিক নির্যাতন এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ সমকালকে বলেন, নির্যাতিত কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছি। মামলা রেকর্ড করার বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
- বিষয় :
- সাভার
- ছাত্রদল নেতা
