ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

লেবানন থেকে ‘শর্তহীনভাবে’ ইসরায়েলের সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে: হিজবুল্লাহ নেতা

লেবানন থেকে ‘শর্তহীনভাবে’ ইসরায়েলের সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে: হিজবুল্লাহ নেতা
×

বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরে হিজবুল্লাহ নেতা নাইম কাসেমের টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণ দেখছেন একদল মানুষ। ছবি: এএফপি

আল জাজিরা ও এএফপি

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬ | ০১:২৪

লেবানন থেকে ইসরায়েলি সৈন্য সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। শুক্রবার মুসলমানদের পবিত্র দিন আশুরা উপলক্ষে এক টেলিভিশন ভাষণে হিজবুল্লাহ নেতা নাইম কাসেম দাবি করেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই লেবানন থেকে তাদের সৈন্য সম্পূর্ণ ও ‘শর্তহীনভাবে’ প্রত্যাহার করতে হবে। 

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি আলোচনার সর্বশেষ পর্ব একটি রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি এই মন্তব্য করেন। 

ইসরায়েলি সৈন্যরা বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের অনেক ভেতরে অবস্থান করছে। ইরান বলছে অন্তর্বর্তীকালীন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য, তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা লেবাননে থাকার বিষয়ে জোর দিচ্ছেন। এর প্রেক্ষিতে নাইম কাসেম বলেন, ‘আমাদের লেবাননের ভূমির প্রতিটি ইঞ্চি থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা ছাড়া ইসরায়েলের আর কোনো বিকল্প নেই। ইসরায়েলকে অবশ্যই শর্তহীনভাবে চলে যেতে হবে।’ তিনি এই চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য ‘পরাজয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা’ বলে বর্ণনা করেছেন।  

নতুন করে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর লেবাননে ইসরায়েলি হামলা কমলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। শুক্রবার নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা শহরে বিমান হামলা হয়েছে এবং মায়ফাদউন শহরে হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মনসুরির ওপর লিফলেট ফেলে বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।  

লেবাননের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সৈন্যরা উত্তরের সীমানার কাছাকাছি আসা বেসামরিক নাগরিক এবং লেবানিজ সৈন্য সবার ওপরই গুলি চালাচ্ছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে তারা আল-মানজালা এলাকায় অস্ত্র স্থানান্তরকারী সাতজন হিজবুল্লাহ সদস্যকে হত্যা করেছে। এছাড়া বেইত ইয়াহউনে হিজবুল্লাহর সাথে সম্মুখ লড়াইয়ে দুই কর্মকর্তাসহ চারজন ইসরায়েলি সৈন্য আহত হয়েছে। 

বৈরুত থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি জেইনা খোদর জানিয়েছেন, সার্বিকভাবে সহিংসতা কমে এলেও ইসরায়েল তাদের হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সর্বশেষ হামলাগুলোর বেশিরভাগই সম্মুখভাগের (ফ্রন্টলাইন) গ্রামগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। 
 

আরও পড়ুন

×