ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

সন্ধ্যা হলেই বাড়ে মশা, কয়েলই যেন ভরসা

সন্ধ্যা হলেই বাড়ে মশা, কয়েলই যেন ভরসা
×

খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ২১:০৮

খুলনা মহানগরীতে শীতের শেষে হঠাৎ বেড়ে গেছে মশার উপদ্রব। পাঁচ-ছয় দিন ধরে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ নগরবাসী। মশা নিধনে খুলনা সিটি করপোরেশনকে (কেসিসি) কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে নগরবাসীর মধ্যে।

স্থানীয়রা জানান, শীত মৌসুম শেষ হওয়ার পর থেকে নগরীতে মশার উপদ্রব বাড়তে থাকে। পাঁচ-ছয় দিন ধরে মশার উপদ্রব অনেক বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ মশার প্রজনন মৌসুম বলে জানায় সিটি করপোরেশন। মশা এ সময় দ্রুত বংশবিস্তার করে। কিন্তু সঠিক সময়ে প্রজনন রোধ করতে না পারায় নগরীতে মশার উপদ্রব বেড়েছে।

নগরীর বাইতিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দিনের বেলা মশার উপদ্রব কিছুটা কম থাকে। সন্ধ্যার পর এর যন্ত্রণা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে বাসায় মশার কয়েল জ্বালাতে হয়। চলতি মাসে একবারও সিটি করপোরেশনের মশা নিধন কার্যক্রম চোখে পড়েনি।

নগরীর শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সন্ধ্যার পর দোকানে মশার কয়েল না জ্বালালে টেকা দায় হয়ে পড়ে। গত দুই মাসে কোনোদিন সিটি করপোরেশনের কাউকে মশা মারতে আসতে দেখিনি।

মিয়াপাড়ার বাসিন্দা গৃহিণী সুলতানা রহমান বলেন, মশার কারণে রাতে সন্তানদের লেখাপড়া বিঘ্নিত হচ্ছে। তার ছেলের শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে। ফলে মশার কয়েল জ্বালাতে পারেন না। লেখাপড়ার সময় র‌্যাকেট দিয়ে তাকে মশা মারতে হচ্ছে।

নগরীর গোবরচাকা এলাকার আহসান হাবিব বলেন, রাতে খাওয়ার সময়ও মশার কয়েল জ্বালাতে হচ্ছে। তখন মশা মরে খাবারের মধ্যে পড়ে। মশা নিয়ে খুবই বিপাকে আছি।

রায়পাড়া মেইন রোডের গৃহিণী সুমি বেগম বলেন, রাতে মাঝেমধ্যে মশারিতে মশা ঢুকে পড়ে। তখন বিছানা থেকে উঠে লাইট জ্বালিয়ে মশা মারতে হয়।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, প্রতিবছর শীত মৌসুমের শেষে নগরীতে মশার উপদ্রব বাড়ে। বিষয়টি কেসিসি কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে। কিন্তু এ বছর এ সময়ে মশা নিধনে কেসিসির কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।

মশা নিধন কার্যক্রম বন্ধ নেই বলে দাবি কেসিসি কর্তৃপক্ষের। কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আবদুল আজিজ সমকালকে বলেন, মশার প্রজনন ঠেকাতে নগরীর ড্রেনগুলোতে কালো তেল (৮০ শতাংশ ডিজেল ও ২০ শতাংশ ফার্নেস অয়েল) ছিটানো হচ্ছে। ফগার মেশিন দিয়ে উড়ন্ত মশা মারার কার্যক্রমও চলমান। শিগগির মশার উপদ্রব কমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

×