ধানশাইল ইউনিয়ন
মানুষের ভোগান্তির কারণ সড়কবিহীন সেতু
শেরপুরের ধানশাইল পাগলা নদীর খালের ওপর নির্মিত সেতু-সমকাল
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ২৩:২০
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের বাগেরভিটা গ্রামে থেকে শ্রীবরদী রানিশিমূল ইউনিয়নের দূরত্ব মাত্র সাড়ে চার কিলোমিটার। এই সাড়ে চার কিলোমিটার কাঁচা সড়ক স্বাধীনতার ৫০ বছরেও পাকাকরণ হয়নি। এলাকাবাসীর দাবিতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সড়কটির মিছির হাজির বাড়ির পেছনে খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। কথা ছিল সেতু নির্মাণের পরপরই পাকাকরণ করা হবে সড়কটি। তাতে ঘুচবে সড়কে চলাচলকারী বাগেরভিটা, বিলাসপুর, রানিশিমূল, ভটপুর, মাদারপুরসহ কয়েক গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ। কিন্তু সেতু হওয়ার পর কষ্ট কমা তো দূরের কথা, আরও বেড়ে গেছে। ২৮ লাখ ১১ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৬ ফুট দীর্ঘ সেতু নির্মাণের দুই বছর পার হলেও সড়কটি আগের মতোই। উপজেলা প্রশাসন কিংবা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি।
কথা হয় বাগেরভিটা গ্রামের রাজমিস্ত্রি সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। ভীষণ বিরক্তির সুরে তিনি বলেন, 'দেশ স্বাধীন হইছে ৫০ বছর। অথচ সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক পাকা হইল না।' তিনি বলেন, 'সেতুটি হওয়ায় আমগরে কষ্ট আরও বাড়ছে। সেতু উঁচু হওয়ায় যানবাহন ওঠানো কষ্টকর। কাজ করার সময় কাঁচা সড়কটি নষ্ট করে ঠিকাদার। কত কইছি মেরামত করে নাই। এই সড়কে এখন আর চলাচল করা যায় না।'
ভটপুর গ্রামের গৃহবধূ পুষ্প বর্মণের ভাষ্য, আগে সড়কে রিকশা, ভ্যানে করে পাঁচ গ্রামের লোকজন যাতায়াত করত। সেতু করার সময় কাঁচা সড়কটি ভেঙে ফেলেন ঠিকাদার। সেটি আর মেরামত হয়নি। দু'মাস আগে বন্যার পানিতে সড়কটি আরও ভেঙে যায়। এখন এক বস্তা ধান বাড়ি থেকে বের করতে হলে মাথায় করে পাকা সড়কে নিতে হয়। তিনি আরও বলেন, 'এ গ্রামে গ্যাস নেই। লাকড়ি দিয়ে রান্না করতে হয়। তাই মাথায় করে প্রায় ৩০০ মিটার দূর থেকে লাকড়ি আনতে হয়। খুব কষ্ট হয় আমাদের।'
কথা হয় বিলাসপুর গ্রামের শিক্ষক আব্দুল মান্নানের সঙ্গে। তাঁর ভাষ্য, বাগেরভিটা ও ভটপুর গ্রাম থেকে শ্রীবরদী উপজেলার রানিশিমূল গ্রামের দূরত্ব মাত্র সাড়ে চার কিলোমিটার। সড়ক না থাকায় প্রায় ১২ কিলোমিটার ঘুরে রানিশিমূল-বাগেরভিটা-ভটপুরের লোকজনদের অন্য সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। তিন গ্রামের ছেলেমেয়েরা মাইলের পর মাইল হেঁটে স্কুলে যায়। তাহলে লাখ লাখ টাকা খরচ করে সেতু নির্মাণের কী দরকার ছিল।
কান্দুলী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কান্দুলী-ভবানীখিলা পাকা সড়কের ২৫০ মিটার গুরগুরি নদীতে বিলীন হয়েছে। শর্মিলী বেগমের বাড়ির সামনে সড়কটির এ অবস্থা হয়েছে। কারণ হিসেবে অপরিকল্পিত সড়ক নির্মাণকে দায়ী করছেন এলাকাবাসী।
সড়কের ভাঙা অংশে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কাঠের একটি সাঁকো তৈরি করা হলেও তা এখন নড়বড় করছে। এই সাঁকোর সামনে গিয়ে রিকশা-ভ্যান ও মোটরসাইকেলের আরোহী ও যাত্রীরা নেমে পড়েন। অনেক কষ্টে পার হয়ে আবার যাত্রীরা গাড়িতে ওঠেন। স্থানীয় শিশু শিক্ষার্থীরা ভীষণ ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হয়। বর্ষাকালে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। এবারের বন্যায় সড়কটি আরও ভেঙেছে। এ সড়কে কান্দুলী, ভবানীখিলা, দরিয়ারপাড়, বাগেরভিটা ও ভটপুর গ্রামের হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। সড়কটি পাকা। কিন্তু মাত্র ২৫০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতুর অভাবে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ কমছে না।
ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের দাবি, সড়কটি বেশ নিচু। প্রশাসনকে অনেকবার মাটি ফেলতে বলা হয়েছে। কিন্তু কেউ কানে তোলেন না। কান্দুলী সেতুর ব্যাপারে তিনি বলেন, সেতুটি হওয়া প্রয়োজন।
ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, চলতি অর্থবছরে বাগেরভিটা-রানিশিমূল সড়কটিতে মাটি ফেলার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কান্দুলী গ্রামে গুরগুরি নদীর ওপর কাঠের সাঁকো আছে। যেহেতু সড়কটি এখন পাকা তাই এলজিইডি সিদ্ধান্ত নেবে, তাঁরা এটি পাকা করবে কি করবে না।
উপজেলা প্রকৌশলী শুভ বসাক বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন। সেতুটি যাতে হয় সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউএনও ফারুক আল মাসুদ জানান, বাগেরভিটা-রানিশিমূল সড়কটি ধমেরামতের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। চলতি অর্থবছর মাটি ফেলার কাজ শেষ করা যাবে বলে প্রত্যাশা তাঁর।
