ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

চুরি ঠেকাতে দা-ছুরি-বল্লম-লাঠি হাতে পেঁয়াজ পাহারা

চুরি ঠেকাতে দা-ছুরি-বল্লম-লাঠি হাতে পেঁয়াজ পাহারা
×

মাঠে পেঁয়াজ পাহারা দিচ্ছেন কৃষকরা -সমকাল

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ০২:৩০

সন্ধ্যা হলেই মাঠে মাঠে হাক ডাক, হাতে হাতে লাঠিসোটা-ছুরি-বল্লম, লম্বা বাঁশের মাথায় কেরোসিনের কুপি আর কিছুক্ষণ পরপরই মাঠের এপাশ ওপাশে টর্চ লাইটের ঝলকানি। এত কিছুর আয়োজন পেঁয়াজের জন্য। ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পেঁয়াজ চুরি ঠেকাতে এভাবেই মাঠে মাঠে গ্রামবাসীদের পাহারা দেখা গেছে। 

তবে এত কিছু করেও পেঁয়াজ চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। চড়া দাম থাকায় এরই মাঝে আউশিয়া, বাদালশো, মনোহরপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের মাঠে রাতের আঁধারে অনেক চাষির পেঁয়াজ চুরি হয়ে গেছে। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, দেশের অন্যতম বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা শৈলকুপা। এবার এ উপজেলায় ৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। 

আউশিয়া গ্রামের চাষি রকি বিশ্বাস জানান, তিনি এবার ৬ বিঘা জমিতে আগাম পেঁয়াজ চাষ করেছেন। দু’একদিন পর থেকেই তিনি জমি থেকে ফসল সংগ্রহ শুরু করবেন। এরই মাঝে মাঠ থেকে রাতে তার ১ শতক জমির পেঁয়াজ চুরি হয়ে গেছে, যার আনুমানিক মূল্য ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। বাধ্য হয়ে তারা মাঠে পাহারার ব্যবস্থা করেছেন। 

তিনি আরো জানান,  প্রতিবিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপন থেকে শুরু করে ঘরে তোলা পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। তার আশা তিনি এক বিঘা জমিতে ৮০ মনের বেশি পেঁয়াজ পাবেন। বর্তমান যে দাম তাতে ভালো লাভের মুখ দেখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

একই গ্রামের অপর চাষি নজরুল ইসলাম জানান, তিন দিন আগে মাঠ থেকে তার পেঁয়াজ চুরি হয়েছে। 

চাষি মুক্তার হোসেন জানান, প্রতিরাতে কোন না কোন মাঠ থেকে পেঁয়াজ চুরি হচ্ছে। তাই তারা লাঠি-সোটা নিয়ে রাতে পাহারার ব্যবস্থা করেছেন।

পৌর এলাকার ব্লক সুপার ভাইজার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, আর কয়েকদিন পরই পেঁয়াজের ভরা মৌসুম। এখন রাতে মাঠ থেকে পেঁয়াজ চুরি হচ্ছে। এ কারণে মাঠে মাঠে চাষিরা সংঘবদ্ধ হয়ে রাতে পাহারার ব্যবস্থা করেছেন। 

আরও পড়ুন

×