ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

অপরাধের সাজা মুক্তিযুদ্ধের বই পড়া-সিনেমা দেখা-গাছ লাগানো

অপরাধের সাজা মুক্তিযুদ্ধের বই পড়া-সিনেমা দেখা-গাছ লাগানো
×

মাগুরা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২০ | ০৬:৩৫ | আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২০ | ০৬:৩৭

পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সৃষ্ট সহিংসতার একটি মামলার রায়ে ইব্রাহিম হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে বই পড়া, গাছ লাগানোসহ সদাচরণের জন্য সহায়ক ব্যতিক্রমী রায় দিয়েছেন মাগুরার মূখ্য বিচারিক আদালতের হাকিম। 

সোমবার বিকালে আদালতের হাকিম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান এ রায় দেন।

ব্যতিক্রমী ওই সাজাপ্রাপ্ত ইব্রাহিমের বাড়ি মহম্মদপুর উপজেলার হরেকৃষ্ণপুর গ্রামে। তিনি এ গ্রামের মৃত হান্নান মোল্লার ছেলে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ আমীর আলী জানান, ২০১৭ সালে ১৫ সেপ্টেম্বর একটি পারিবারিক বিরোধের জের ধরে হরেকৃষ্ণপুর গ্রামে মোছাম্মাৎ সায়লা আক্তার নামে এক নারী আহত হন। এ ঘটনায় সায়লার ছেলে মোহাম্মদ রকি মহম্মদপুর থানায় একই গ্রামের ইব্রাহিম, কামাল ও চায়না বেগমকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলার সাক্ষ্য প্রমাণাদিতে চায়না বেগম নির্দোষ প্রমানিত হন। মামলার তদন্তকালে অপর আসামি কামাল হোসেন একই কারণে চার্জশিট থেকে অব্যহতি পান। অন্যদিকে ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগের পরিবর্তে সংশোধনের জন্য ইব্রাহিমকে দন্ডবিধির ৩২৪ ধারার পরিবর্তে প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ১ বছর সময়কালের জন্য ৭টি শর্তে প্রবেশন মঞ্জুর করেন হাকিম জিয়াউর রহমান। এই প্রবেশনকালীন সময়ে বিচারক ইব্রাহিমকে যে ৭টি শর্ত পূরণের শর্ত দিয়েছেন সেগুলো হলো,- প্রবেশনকালীন সময় দোষী সাব্যস্ত আসামি কোনরূপ অপরাধের সঙ্গে জড়িত হবেন না বা একই ধরণের অপরাধ আর করবেন না, শান্তি বজায় রাখবেন এবং ভাল ব্যবহার করবেন, আদালত এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তলব করলে যথাসময়ে উপস্থিত হবেন, কোনরূপ মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করবেন না, কোন খারাপ সঙ্গীর সঙ্গে আর মিশবেন না, প্রবেশনকালীন সময়ে আসামি মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপর ২টি বই জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলো ও রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের লেখা একাত্তরের চিঠিসহ ইসলাম ও নৈতিকতার ওপর আরো ২টি বই পড়বেন এবং আগুনের পরশমনি সিনেমা দেখবেন, প্রবেশনকালীন সময় আসামি পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হিসাবে ২টি বনজ ও ৩টি ফলজ গাছ লাগাবেন।

আইনজীবী সৈয়দ আমীর আলী আরও জানান, সাজাপ্রাপ্ত ইব্রাহিম কোন শর্ত ভঙ্গ করলে বা তার আচরণ সন্তোষজনক না হলে তার প্রবেশন আদেশ বাতিল করা হবে এবং অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডাদেশ ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করবেন। প্রবেশনার কর্মকর্তা প্রতি তিনমাস অন্তর শর্ত প্রতিপালন ও অগ্রগতি সম্পর্কে রিপোর্ট দাখিল করবেন।


আরও পড়ুন

×