ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সরকারি দরে এক মুঠো ধান চালও জোটেনি গুদামে

সরকারি দরে এক মুঠো ধান চালও জোটেনি গুদামে
×

প্রতীকী ছবি

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২২ | ১২:০০

আমন মৌসুমে এক মুঠো ধান-চালও কিনতে পারেনি নান্দাইল উপজেলার সরকারি খাদ্যগুদাম। নিবন্ধিত কৃষক ও চালকল মালিকদের বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও ধান-চাল সরবরাহে তাঁরা সাড়া দিচ্ছেন না। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারদর বেশি থাকায় কৃষক ও চালকল মালিকরা ধান-চাল বিক্রি করছেন না বলে অভিমত গুদাম-সংশ্নিষ্টদের।

নান্দাইল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস থেকে জানা গেছে, চলতি বছর আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ১২৮ টন। চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৩৯৫ টন। এক কেজি ধানের সরকার নির্ধারিত মূল্য ২৮ টাকা, এক কেজি চালের মূল্য ৪২ টাকা। এই দরে সারাদেশের মতো নান্দাইলেও ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয় গত ১৭ নভেম্বর। অভিযান চলবে আগামী বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু দেড় মাস অতিবাহিত হলেও এক মুঠো ধান-চালও কিনতে পারেনি সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নান্দাইলের বিভিন্ন বাজারে প্রতি মণ চিকন ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩২০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকায়। প্রতি মণ মোটা ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২২০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায়। সে হিসাবে প্রতি কেজি চিকন ধানের মূল্য ৩৩-৩৪ টাকা। আর মোটা ধানের কেজি ২৯ টাকা। তা ছাড়া অনেক ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হয় বলে সরকারি গুদামে ধান বিক্রিতে অনীহা প্রকাশ করেন চাষিরা।

জানা গেছে, মাত্র দু'জন কৃষক ধান সরবরাহের জন্য অ্যাপসের মাধ্যমে আবেদন করেছিলেন। বারবার যোগাযোগের পরও ধান সরবরাহ করছেন না তাঁরা। সরকার এক কেজি চালের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করেছে ৪২ টাকা, যা বাজার মূল্যের চেয়ে কম।

তাই লোকসানের কথা চিন্তা করে সরকারি গুদামে চাল দিতে গড়িমসি করছেন চালকল মালিকরা।

নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নে মেসার্স দেওয়ানগঞ্জ অটোরাইস মিল। এ চালকলের মালিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, 'আমরা সরকারি তালিকাভুক্ত চালকল, আমাদের তো চাল সরবরাহ করতেই হবে। সেক্ষেত্রে অনেক লোকসান দিতে হবে, খুদ-কুড়াটাও থাকবে না আমাদের।'

অন্য একটি চালকলের মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ধান থেকে চাল করতে প্রতি কেজি চালের দাম পড়ছে ৪৭ থেকে ৪৮ টাকা। তাঁরা সরকার নির্ধারিত মূল্য ৪২ টাকায় চাল দেবেন কীভাবে?

জানতে চাইলে নান্দাইল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, বাজারে মূল্য বেশি থাকায় সবাই গুদামে ধান বিক্রি করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। মাইকিং করে, লিফলেট বিলি করেও কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা যাচ্ছে না। এখনও সময় আছে দেখা যাক কি হয়।

আরও পড়ুন

×