পিকনিকের বাসে পোশাক শ্রমিককে শ্বাসরোধে হত্যা
রফিকুল ইসলাম
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২০ | ০৫:০০
ঢাকার ওরিয়ান গ্রুপের পোশাক কারখানার শ্রমিক রফিকুল ইসলাম (২৫)। সহকর্মীদের সঙ্গে আনন্দ ভ্রমণে এসেছিলেন ময়মনসিংহের ত্রিশালের কাঁঠাল ইউনিয়নের সিংরাইল গ্রামের গ্রিন ভিলেজ পার্কে। সেখানে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় তাকে। শুক্রবার গ্রিন ভিলেজ পার্কে এ ঘটনা ঘটে।
রফিকুল ইসলাম তাড়াইল উপজেলার চর তালজাঙ্গা গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় তার মা কুলসুমা বেগম বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে ওরিয়ান গ্রুপের প্রায় চারশ' গার্মেন্টসকর্মী আনন্দ ভ্রমণে ত্রিশালের গ্রিন ভিলেজ পার্কে আসে। সহকর্মীদের সঙ্গে ওই পিকনিকে আসেন রফিকও। পিকনিক স্পটে পৌঁছানোর পর তাদের বহনকারী ২ নম্বর বাসের ভেতর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় রফিককে। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে এক নারী কর্মী বাসের মধ্যে রফিকের নিথর দেহ দেখে চিৎকার করেন। তখন পোশাককর্মীরা ছুটে আসেন। এরপর ওরিয়ান গ্রুপের কর্মকর্তারা চারজন পোশাক শ্রমিককে দিয়ে নিথর দেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে নিজেরা ঢাকায় চলে যান। হাসপাতালের চিকিৎসক রফিককে মৃত ঘোষণা করলে খবর পেয়ে বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেলে যান ত্রিশাল ও ময়মনসিংহ কোতোয়ালী থানা পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয় লাশটি। এরপর হাসপাতালে ছুটে আসেন রফিকের পরিবারের লোকজন।
নিহতের মামাত ভাই এনাম হক বলেন,অভাবের সংসারে চার ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় ছিল রফিক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন ফুফা। গাছের ডাল ভেঙে মাথায় পড়ার পর তার চিকিৎসার জন্য খরচ হয় অনেক টাকা। দেনা পরিশোধ করতে দেড় বছর আগে স্বপরিবারে চলে আসেন ঢাকায়। রফিকের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ও মা-বাবা পাগলপ্রায়।
ত্রিশাল থানার ওসি আজিজুর রহমান জানান, মৃতদেহের গলার সামনের দিকে তার বা রশি দিয়ে ফাঁসের চিহ্ন এবং গলার দু'পাশে আঙ্গুলের ছাপ রয়েছে। সিআইডি, ডিবি ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে তদন্ত কাজ চলছে। আশা করছি দ্রুত জড়িতদের সনাক্ত করা যাবে।
- বিষয় :
- হত্যা
- শ্বাসরোধে হত্যা
- পোশাক শ্রমিক
- ত্রিশাল
