ছাঁটাই প্রস্তাবে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি বন্ধের দাবি বিরোধীদলের
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ১৯:২০
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মঞ্জুরি দাবির ওপর আলোচনায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বাড়িয়ে ব্যয় বৃদ্ধি ও জনগণের অর্থের অপচয় বন্ধের আহ্বান জানান তারা।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক মঞ্জুরি দাবি ও ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় এসব দাবি ওঠে। ৫৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে ৪৩ জন সংসদ সদস্য মোট ১ হাজার ৪৪৩টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তবে সময়ের স্বল্পতায় সব প্রস্তাবের আলোচনা হয়নি। পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান অবশিষ্ট প্রস্তাবের ওপর আলোচনা প্রত্যাহার করলে সরকারি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সব ছাঁটাই প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
পরিকল্পনা বিভাগের মঞ্জুরি দাবির ওপর আলোচনায় খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বলেন, অনেক উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং জনগণের অর্থের অপচয় হচ্ছে। বারবার প্রকল্প সংশোধনের প্রয়োজন পরিকল্পনা প্রণয়নের দুর্বলতাই তুলে ধরে।
কুষ্টিয়া-৩ আসনের সদস্য মো. আমির হামজা বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকল্প গ্রহণের সংস্কৃতি থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে।
বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের আলোচনায় রাজশাহী-৪ আসনের সদস্য মো. আব্দুল বারী সরদার বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। যদিও বিরোধীদলের ছাঁটাই প্রস্তাব গৃহীত হবে না জেনেও প্রতিবাদস্বরূপ এক টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের আলোচনায় রংপুর-৪ আসনের সদস্য আখতার হোসেন বিদেশি ঋণ গ্রহণে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানান। তিনি বলেন, ঋণের পরিমাণ, শর্ত, উৎস এবং সেই ঋণে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা সংসদের সামনে তুলে ধরা উচিত। পাশাপাশি প্রকল্পে দুর্নীতি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের আলোচনায় পিরোজপুর-১ আসনের সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, রাজস্ব প্রশাসনের নীতিগত দুর্বলতার কারণে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় সম্ভব হচ্ছে না। এ খাতে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ নিয়ে পাবনা-১ আসনের সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। দেশে ২৫ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন থাকলেও বিভাগীয় শহরে হাইকোর্ট স্থাপন এবং পেপারলেস বিচারব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই।
রুমিন ফারহানা বলেন, বিচার বিভাগের বরাদ্দ জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ, যা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমের বরাদ্দের চেয়েও কম। একই সঙ্গে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৩১ হাজার ৯৯ কোটি টাকার মঞ্জুরি দাবিরও সমালোচনা করেন।
জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিরোধীদলের কেউ বরাদ্দ বেশি, আবার কেউ বরাদ্দ কম বলে এক টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এক টাকা বরাদ্দ দিয়ে কোনো মন্ত্রণালয় পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলোচনায় রংপুর-১ আসনের সদস্য মো. রায়হান সিরাজী তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত অনুমোদনের দাবি জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন, তাই আগামী একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন করা উচিত।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আলোচনায় সংরক্ষিত আসনের সদস্য মারদিয়া মমতাজ শিক্ষকদের ট্যাব বিতরণ ও শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিল কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়মিত মূল্যায়নের দাবি জানান। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, মিড-ডে মিল কর্মসূচির বিদ্যমান ত্রুটি দূর করতে সরকারের নির্দেশনায় কাজ চলছে।
- বিষয় :
- জাতীয় সংসদ
