গভীর রাতে সাংবাদিককে ধরে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা
ফাইল ছবি
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২০ | ০৫:১৭ | আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২০ | ০৮:০৮
কুড়িগ্রামে গভীর রাতে এক সাংবাদিককে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাড়ি থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের দাবি করে এই সাজা দেওয়া হয়। ওই সাংবাদিকের নাম আরিফুল ইসলাম রিগ্যান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।
শুক্রবার গভীর রাতে জেলা প্রশাসনের তিন ম্যাজিষ্ট্রেটসহ টাক্স ফোর্সের সদস্যরা আরিফুল ইসলামকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যান। এই অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা।
জেলা সদরের কৃষ্ণপুর চরুয়াপাড়া এলাকার বাড়ি থেকে রিগ্যানকে তুলে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাওয়া হয়। এরপর তার কাছে ৪৫০ মিলিলিটার দেশি মদ ও ১০০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে বলে মধ্যরাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক বছরের দণ্ড দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে কারাগারে পাঠানো হয়।
সাংবাদিক রিগ্যানের স্ত্রী তাসরিমা সরদার লিপু ও পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে খাওয়া শেষে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি দরজা ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে সাথে-সাথে বিষয়টি মোবাইল ফোনে স্বজনদের জানান রিগ্যান। এরই একপর্যায়ে দরজা ভেঙে তারা ঘরে প্রবেশ করে রিগ্যানকে ধরে মারধর শুরু করেন।
রিগ্যানের স্ত্রী জানান, এ সময় বাধা দিতে গেলে ওই ব্যক্তিরা তাকেও মারতে উদ্যত হন। এরপর তারা রিগ্যানকে তুলে নিয়ে যান। তাদের মধ্যে পোশাক ও অস্ত্রধারী কয়েকজন ছিলেন। পরে জানতে পারেন রিগ্যানকে ডিসি অফিসে নিয়ে গিয়ে মাদক মামলা দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করলে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ড ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যরাতে তাকে করাগারে পাঠানো হয়েছে।
তাসরিমা দাবি করেন, সম্প্রতি জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে বাংলা ট্রিবিউনে সংবাদ প্রকাশ এবং ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে প্রশাসনের লোকজন রিগ্যানকে এভাবে তুলে নিয়ে গেছে। তিনি তার স্বামীর মুক্তি ও এই ঘটনার তদন্ত করে ন্যায় বিচার দাবি করেন।
এদিকে, আরিফুল ইসলাম রিগ্যানের মুক্তির দাবিতে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কে মানববন্ধন করেছেন জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ।
এ সময় বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান বিপ্লব, দৈনিক খবর-এর সম্পাদক এসএম ছানালাল বকসী, সাংবাদিক শ্যামল ভৌমিক, রাজু মোস্তাফিজ, হুমায়ুন কবির সূর্য্য, আশরাফুল হক রুবেল ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সাধারন সম্পাদক দুলাল বোস প্রমুখ।
বক্তারা ২৪ ঘন্টার মধ্যে রিগ্যানকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার আলটিমেটাম দেন।
এ প্রসঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলা হলে জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন বলেন, বিধি মোতাবেক টাস্কফোর্সের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এখন আপিল করলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
- বিষয় :
- কুড়িগ্রাম
- সাংবাদিক রিগ্যান
