ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেন সাংবাদিক রিগ্যান

চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেন সাংবাদিক রিগ্যান
×

শনিবার দুপুরে রিগ্যানকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়- সমকাল

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২০ | ০৫:৫২

নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে এক সপ্তাহ চিকিৎসা দেওয়ার পর শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রেদোয়ান ফেরদৌস তার ছাড়পত্রে স্বাক্ষর করেন। এরপর জেলা শহরের কৃষ্ণপুর চরুয়াপাড়া এলাকার বাড়িতে ফিরে যান রিগ্যান।

এর আগে গত রোববার সকাল ১১টার দিকে রিগ্যানের জামিন আদেশ হওয়ার ২০ মিনিট পর কারাগার থেকে ছেড়ে দেওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে অসুস্হ অবস্হায় জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাকে।

রিগ্যান হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নেওয়ার সময় তার স্বজনরা ছাড়াও বাংলা ট্রিবিউনের সিনিয়র রিপোর্টার নুরুজ্জামান লাবু, লালমনিরহাট প্রতিনিধি মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মমিনুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক শ্যামল ভৌমিক, জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক দুলাল বোস, জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলমগীর, সাংবাদিক হাসিবুর রহমান হাসিব, ওয়াহিদুজ্জামান তুহিন, বাদশা সৈকত, জাহিদুল হক জাহিদ ও ইমতে আহসান শিলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে আরিফুল ইসলাম রিগ্যান দেশের সব সাংবাদিক এবং দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তার ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে তার ন্যায্য বিচার এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মার্চ দিবাগত মধ্যরাতে জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীনের নির্দেশে রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) নাজিম উদ্দিন, সিনিয়র সহকারি কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও সহকারি কমিশনার এসএম রাহাতুল ইসলামসহ ৪০ জনের একটি দল অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে তার বাসার দরজা ভেঙে ঢুকে মারধর করার পর জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর এনকাউন্টারের হুমকি দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরিয়ে তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে চোখ বেঁধে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করে। এরপর সাজানো মামলায় ৪৫০ গ্রাম দেশী মদ ও ১০০ গ্রাম গাঁজা সঙ্গে দিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় অধূমপায়ী আরিফকে। সেইসঙ্গে চোখ বাঁধা অবস্থাতেই চারটি কাগজে স্বাক্ষরও করতে বাধ্য করা হয় তাকে। তারপর ওই রাতেই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন এবং জেলা প্রশাসনের তিন কর্মকর্তা আরডিসি নাজিম উদ্দিন, সিনিয়র সহকারি কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এসএম রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে নেয়। এছাড়া সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যান বাদী হয়ে প্রত্যাহার হওয়া জেলা প্রশাসক ও তিন সহকারি কমিশনারের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত আরও ৪০ জনকে আসামি করে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর থানায় একটি এজাহার দাখিল করেন।

আরও পড়ুন

×