কক্সবাজারে দুই বন্যহাতির রহস্যজনক মৃত্যু
ধান খেতে পড়ে আছে বন্যহাতির লাশ- সমকাল
কক্সবাজার অফিস ও রামু প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২০ | ০৯:৫৯
কক্সবাজারের রামু ও চকরিয়ায় দুটি বন্যহাতির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভোরে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের গোয়ালিয়া এলাকায় একটি এবং চকরিয়া উপজেলার খুঁটাখালী ইউনিয়নের পূর্বপাড়ার ঠান্ডাছড়ি এলাকায় অপর হাতিটি মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়েছে এলাকাবাসী।
হাতি দুটি কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন সংরক্ষিত বন এলাকায় ছিল।
রামুর দক্ষিণ গোয়ালিয়া সামাজিক বনায়ন উপকারভোগীদের সভাপতি মোহাম্মদ তৈয়ব জানান, ভোরে নামাজের পর তিনি স্থানীয় মোহাম্মদ হোছনের ধানক্ষেতে হাতিটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তিনি বন বিভাগ, জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসীকে খবর দেন।
রামু উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. শাহজাদা মোহাম্মদ জুলকারনাইন বলেন, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ডা. মোস্তাফিজুর রহমানসহ আমরা মৃত হাতিটির আলামত নিয়েছি। তা আমরা ঢাকায় ল্যাবরেটরিতে পাঠাব। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এলেই মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে।
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তহিদুল ইসলাম বলেন, চকরিয়ার খুঁটাখালীতে পাওয়া মৃত হাতিটি হয়তো আরও দু'দিন আগে মারা গেছে। তবে আমরা খবর পেয়ে আজ ভেটেরিনারি সার্জন দিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছি। ধারণা করছি, বার্ধ্যক্যজনিত কারণে হাতিটির মৃত্যু হয়েছে।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, খুনিয়াপালং ইউনিয়নের গোয়ালিয়া এলাকায় মৃত হাতি আমি দেখে এসেছি। আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী পুরুষ প্রজাতির হাতি এটি। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মূল ঘটনা জানা যাবে। এর পরও আমরা সব বিষয় মাথায় নিয়ে খোঁজখবর রাখছি।
কক্সবাজারে পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এনভায়রনমেন্ট পিপলের প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, নির্বিচারে হাতির আবাসস্থল ধ্বংস করা হয়েছে। যেখানে হাতির মৃত্যু হয়েছে, সেখানে হাতির আবাস থাকার কথা; কিন্তু সেখানে বন উজাড় করা হয়েছে। আবাসস্থল হারানোয় হাতিগুলো খাদ্য সংকটে পড়ে লোকালয়ে ছুটে আসছে। আর মানুষ নির্মমভাবে তাদের হত্যা করছে। তিনি বলেন, তিন মাসের ব্যবধানে কক্সবাজারে তিনটি হাতির মৃত্যু হলো। দ্রুত হাতির অভয়ারণ্য সৃষ্টি করা না হলে এদের বাঁচানো যাবে না।
- বিষয় :
- রহস্যজনক মৃত্যু
- বন্যহাতি
- কক্সবাজার
