ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

‘মানবিক পুলিশের চোখে জনতার আকাঙ্খা লেখা থাকে’

‘মানবিক পুলিশের চোখে জনতার আকাঙ্খা লেখা থাকে’
×

ছবি: সমকাল

শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২০ | ০৬:৫৯

‘আমরা আছি তোমাদের পাশে। মানবিক পুলিশের চোখে জনতার আকাঙ্খা লেখা থাকে।’ করোনা প্রতিরোধে এমন সব শ্লোগান সম্বলিত সাড়ে ৫ শতাধিক বিলবোর্ড গত কয়েকদিনে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থাপন করেছে শেরপুর জেলা পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম। এ সব শ্লোগানের নিচেই জনতাকে কিছুক্ষণ পর পর সাবান দিয়ে হাত ধৌত করার আবেদনসহ করোনা প্রতিরোধে করণীয় নানা লেখা রয়েছে।

আবার বিলবোর্ডের পাশেই বেশ কিছু জায়গায় রয়েছে হাত ধৌত করার বেসিন। সেখানে সাবান, সেভলন-ডেটল জাতীয় ভাইরাস জীবাণুমুক্তকারী হ্যান্ড রাব সলিউশন রয়েছে। মানুষ বিলবোর্ডে লেখাগুলো পড়ার পাশাপাশি এখানে হাত ধৌত করার কাজ সেরে নিচ্ছেন। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে শেরপুর জেলা পুলিশের নানা উদ্যোগের অন্যতম এসব বিলবোর্ডের লেখা পড়ে জেলার মানুষ দারুণ উজ্জীবিত।

এছাড়াও মসজিদ-মাদরাসাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও জনসাধাররণর মধ্যে করোনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ৫ লাখ লিফলেট বিতরণের কাজ চলছে পুরোদমে। ইতোমধ্যেই প্রায় দেড় লাখ লিফলেট বিতরণ হয়েছে। পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন মসজিদ ও জনসম্পৃক্ত এলাকায় গিয়ে এসব লিফলেট নিজ হাতে বিতরণ করছেন। মুসুল্লীদের সাথে কথা বলার সময় তিনি বলছেন, আমি নিজে বাড়িতে ও অফিসে নামাজ আদায় করছি। আপনারাও চেষ্টা করুন। এতে করোনা সংক্রমণ হবে না।’

সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে ৫ উপজেলা শহরে চলছে ব্যাপক মাইকিং। মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বানসহ অযথা শহরে আড্ডা না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। জেলা শহরের নিউমাকের্ট, নয়আনী বাজার, রঘুনাথ বাজার এলাকায় পুলিশের ২-৩  সদস্যের বেশ কয়েকটি টিম তরুণ-তরুণীদের  সাথে করোনা নিয়ে কথা বলছেন। তারা অযথা শহরের রেষ্টুরেন্টে আড্ডা ও ঘুরাঘুরি না করার জন্য তাদের অনুরোধ করছেন। শুধু তাই নয়, অটোরিকশা ও সিএনজিতে চলাচলরত যাত্রীদের তারা গণপরিবহন ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ করছে জেলা ও উপজেলা শহরে পুলিশের শতাধিক টিম। এতে গত দু’দিনে জেলা সদরসহ উপজেলা শহরে রাস্তায় জনাসাধারণের সংখ্যা অনেক কমে এসেছে।

এদিকে স্কুল কলেজ বন্ধ হওয়ার পর খেলার মাঠগুলোতে গত কয়েকদিন ছিল তরুণদের ব্যাপক সমাগম। প্রতিটি থানার তদন্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে খেলার মাঠে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিভাবকদের ডেকে, বোঝানোর ফলে খেলার মাঠে এখন যাচ্ছে না তরুণরা।

করোনা প্রতিরোধে পুলিশের এসব উদ্যোগ দারুণ প্রশংসা পাচ্ছে জনসাধারনের মধ্যে। অ্যাডভোকেট মানস চক্রবর্তী অংকন বলেন, পুলিশের জনবান্ধব এসব কর্মসূচী দেখে আমরা ভীষণ খুশি। চরম মানবিক সংকটে পুলিশ মানুষের পাশে আছে। একথা ভেবে মনে সাহস পাই। ভয় কমে যায়।’

শিক্ষক জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, করোনা নিয়ে আমরা ভীষণ আতঙ্কিত। কার কাছে যাবো। কোথায় যাবো। এসব ভাবলে অস্থির হয়ে যাই। এ সংকটে আমাদের শেরপুরের পুলিশ বিভাগ করোনা সংক্রমণে যেভাবে সচেতনতামূলক কাজ করছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।

পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম বলেন, ‘মানুষের সেবার জন্য জেলা পুলিশের সহস্রাধিক সদস্য তৈরি রয়েছে। তাদের মাস্ক- গ্লাভস দেওয়া হয়েছে। মানুষের জন্য তারা নিজেদের ‍সুখ ত্যাগ করতে প্রস্তুত। ঝুঁকি থাকলেও আমাদের পুলিশ সদস্যরা দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। করোনাকে প্রতিরোধ করতে যা যা দরকার সবকিছুই আমরা করবো।’

আরও পড়ুন

×