২০ দশকের পুরোনো মেলা
একদিনের মেলায় অর্ধকোটি টাকার শুঁটকি বিক্রি
মুরাদ মৃধা, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৩ | ১৮:০০
প্রায় ২০০ বছর আগে বৈশাখ মাসে স্থানীয় কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ওপর ভিত্তি করে শুরু হয় মেলার প্রচলন। ভোর ৪টা থেকে শুরু হয় বেচাকেনা। তবে ‘বিনিময় প্রথা’ বা পণ্যের বিনিময়ে শুঁটকি দেওয়া হয় ভোর ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত। এ সময়ে নারীদের উপস্থিতি থাকে বেশি। চাল, ডাল, আম, পেঁয়াজ, রসুন, ধান, শিমের বিচি, আলু, সরিষাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিনিময়ে শুঁটকি নেন তাঁরা।
শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বসে এ শুঁটকি মেলা। এর মূল আকর্ষণ ‘বিনিময় প্রথা’। তবে এখন টাকার বিনিময়ে কেনাবেচা হয় বেশি। সদর ইউনিয়নের কুলিকুন্ডা উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বসে মেলাটি। তবে কোনো আয়োজক কমিটি নেই। স্থানীয়রা নিজ নিজ অবস্থান থেকে মেলা সফল করার চেষ্টা করেন। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।
কুলিকুন্ডা গ্রামের ইউপি সদস্য মো. আজম মীরধা বলেন, ‘মেলার সঠিক ইতিহাস আমাদের জানা নেই। তবে দু’তিনশ বছর ধরে আয়োজন হচ্ছে বলে বাপ-দাদার কাছ থেকে শুনেছি।’ কুষ্টিয়া থেকে আসা দম্পতি ফারুক ও হীরামন জানান, সংবাদমাধ্যমে জেনেছেন মেলায় পণ্য দিয়ে পণ্য বিনিময় করা যায়। আসতে দেরি হয়ে গেছে। সে কারণে এ দৃশ্য দেখতে পারেননি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা দোকান নিয়ে বসে আছেন। মেলায় শতাধিক রকমের শুঁটকি উঠেছে বলে দাবি বিক্রেতাদের। মেলায় স্থানীয় জেলেদের উৎপাদিত মিঠা পানির মাছের শুঁটকি বেশি। মাছের ডিমও বিক্রি হতে দেখা গেছে।
শুঁটকি ছাড়াও বাহারি খাবার, মনিহারি, মাটির খেলনা, তৈজসপত্র, কাঠের সামগ্রীর দোকানও বসান বিক্রেতারা। ঢাকার বকশীবাজার থেকে আসা শেখ আনাস জানান, বন্ধুদের কাছ থেকে জানতে পারেন মেলার কথা। তবে দাম বেশি।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দুই শতাধিক দোকানের প্রতিটিতে ৫-৮ লাখ টাকার শুঁটকি আছে। কিছু দোকানে আছে ২০-২৫ লাখ টাকার। ক্রেতা ভালো এলে কয়েক কোটি টাকার শুঁটকি বিক্রি হবে। উপজেলায় ১৯টি বিলের মাছ ছাড়াও সামুদ্রিক মাছের শুঁটকি তুলেছেন ব্যবসায়ীরা।
কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, এ বছর দাম কেজিপ্রতি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বেড়েছে। পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মানুষ বেশি দাম দিয়ে কিনতে চায় না। সবাই দেখতে আসে। সুনামগঞ্জের ব্যবসায়ী মিহির দাস বলেন, ‘আমি ৩৫ লাখ টাকার শুঁটকি নিয়া আইছি মেলায়। তিন ঘণ্টায় মাত্র ২০ হাজার টাকার বেচতাম পারছি। গত বছরের তুলনায় দোকান বেশি। ক্রেতারা শুঁটকি কিনতে পারছেন দরদাম করে।’
মেলার বিষয়ে গল্পকার ও সাংবাদিক সোহরাব শান্ত বলেন, একসময় বৈশাখ মাসে মাছ ধরা ও খাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। ধারণা করা হয়, বৈশাখ মাসেও মাছের স্বাদ পেতে আগে থেকে শুকিয়ে রাখা মাছ বা শুঁটকির মেলা আয়োজন শুরু হতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে গবেষণার দরকার।
জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা শুভ্র সরকার বলেন, সম্পূর্ণ কেমিক্যাল ও বিষমুক্ত শুঁটকি দেশের বাইরেও যাচ্ছে। ইউএনও মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ঐতিহ্য ধরে রাখতে উপজেলা প্রশাসন আয়োজকদের পাশে থাকবে।
- বিষয় :
- শুঁটকি
- শুঁটকি মেলা
