দীঘিনালায় ‘হামে’ আক্রান্ত ১ শিশুর মৃত্যু
দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২০ | ০৭:২৭
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার দুর্গম রথিচন্দ্র কারবারী পাড়ায় গত এক সপ্তাহ ধরে ‘হাম রোগের’ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এখানে ‘হামে’ আক্রান্ত হয়ে ধনিতা ত্রিপুরা নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। পান্তই ত্রিপুরা নামে তৃতীয় শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থীকে মুমূর্ষু অবস্থায় রোববার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
উপজেলার সদর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই পাহাড়ী গ্রামে এ পর্যন্ত ১২ শিশু ‘হামে’ আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। করোনাভাইরাসের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় আক্রান্ত শিশুরা চিকিৎসা নিতে পারেনি বলে তাদের অভিভাবকরা জানান। এমতাবস্থায় শনিবার ‘হামে’ আক্রান্ত তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ধনিতা ত্রিপুরা মারা যাওয়ার পর পুরো এলাকাজুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রোববার সকাল ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চার সদস্যের একটি মেডিকেল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মেডিকেল টিম প্রধান ডা. আনোয়ার জানান, প্রসেন ত্রিপুরা, দিমন ত্রিপুরা, রোজিনা ত্রিপুরা, কমপেস ত্রিপুরা, ধরেন ত্রিপুরা, খঞ্জন ত্রিপুরা ও মেরিনা ত্রিপুরাসহ আক্রান্ত ১২ শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া পান্তই ত্রিপুরা নামে এক শিশুকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
রথিচন্দ্রপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রামেন্দ্র ত্রিপুরা জানান, গত মঙ্গলবার থেকে হঠাৎ করে এই এলাকায় ‘হামের’ প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। করোনাভাইরাসের ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে নেয়াও সম্ভব হচ্ছে না। আক্রান্ত শিশুরা সবাই একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী বলে জানান তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তনয় তালুকদার জানান, আক্রান্ত শিশুদের লক্ষণ দেখে ‘হাম রোগে’ আক্রান্ত বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরীক্ষা না করে হাম কি না তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চার সদস্যের একটি মেডিকেল টিম দুর্গম রথিচন্দ্র পাড়ায় গিয়ে আক্রান্ত শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে আতংকিত না হওয়ার জন্য আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
এদিকে ‘হামে’ আক্রান্ত হয়ে শিশুর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে দুর্গম রথিচন্দ্র কারবারী পাড়ায় ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ। ফিরে এসে তিনি জানান, আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দিতে ইতিমধ্যে চার সদস্যের একটি মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে আক্রান্ত এক শিশুকে প্রশাসনের সহযোগিতায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাছাড়াও আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
