স্ত্রীর সঙ্গে পরকিয়া, স্বামী-স্ত্রী মিলে খুন
মাগুরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২০ | ২০:৪৭
মাগুরার শ্রীপুরে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে মাটি ঘুড়ে পুলিশ নিখোঁজ এক যুবকের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে। শ্রীপুর উপজেলার চৌগাছি গ্রামের পিকুল বিশ্বাস (৩৮) নামে ওই যুবক গত ৩ মার্চ নিখোঁজ হন।
ওই যুবককে হত্যার অভিযোগে পুলিশ একই উপজেলার চরমহেশপুর গ্রামের কাজী মোশারোফ হোসেন ও রাজিয়া সুলতানা দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে। পরকিয়ার জের ধরে স্বামী-স্ত্রী মিলে ওই যুবকের হত্যার পর মরদেহ নিজ বাড়ির কল পাড়ের পাশে গর্ত খুড়ে পুঁতে রেখেছিলেন বলে তারা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।
মাগুরার পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান জানান, পিকুল বিশ্বাস গত ২ মার্চ শ্রীপুর উপজেলার চৌগাছি গ্রাম থেকে গাজীপুরে কাশিমপুরে তার বোনের বাড়িতে বেড়ান যান। পরদিন তিনি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে নিখোঁজ হন। ৭ মার্চ তার পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজের বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়। পুলিশ পিকুলকে উদ্ধারের জন্য নানাভাবে চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পুলিশ নিশ্চিত হয়, ৩ মার্চ পিকুল শ্রীপুরে আসে এবং পিকুলের সঙ্গে তার বাড়ির পাশের গ্রাম চরমহেশপুরের রাজিয়া সুলতানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কথা হয়। পুলিশ সর্বশেষ মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সুত্র ধরে রাজিয়া সুলতানা ও তার প্রবাসী স্বামী কাজী মোশারোফ হোসেনকে ৩ এপ্রিল শুক্রবার আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এক পর্যায়ে তারা পুলিশকে জানায়, ৩ মার্চ পিকুলকে তাদের বাড়ি ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই রাতে দুধের সঙ্গে একাধিক ঘুমের বড়ি মিশিয়ে খাওয়ানোর পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে গলা কেটে হত্যা করে বাড়ি পাশে কল পাড়ে গর্ত খুঁড়ে লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, মূলত প্রবাসী কাজী মোশারোফ হোসেনে স্ত্রী রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে পরকিয়ার জের ধরে স্বামী-স্ত্রী মিলে পরিকল্পিতভাবে পিকুলকে হত্যা করে তার মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে গুম করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তিতে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোশারোফ হোসেনের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানার চরমহেপুর গ্রামের বাড়ির কল পাড়ের পাশ থেকে পিকুলের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ পিকুলকে হত্যা ও মরদেহ গুম করার দায়ে ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
- বিষয় :
- মাগুরা
- লাশ উদ্ধার
