ময়মনসিংহে স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ
ময়মনসিংহ ব্যুরো
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২০ | ১১:১৩ | আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২০ | ১২:৪২
করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে নিম্নমানের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী (মাস্ক ও সাবান) কিনে দুর্নীতি করার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন নাসরিনের বিরুদ্ধে। শনিবার রাতে জেলা পরিষদের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন জেলা পরিষদের সদস্যরা এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পরিষদ সদস্য একরাম হোসেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর দেওয়া অভিযোগপত্র পাঠ করেন। এ সময় জেলা পরিষদের ২০ সদস্যের মধ্যে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মমতাজ উদ্দিন, প্যানেল চেয়ারম্যান-২ আব্দুল খালেক, প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ ফরজানা শাষদের ২০ সদস্যের মধ্যে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মমতাজ উদ্দিন, প্যানেল চেয়ারম্যান-২ আব্দুল খালেক, প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ ফরজানা শামিনসহ ১৮ জন্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
তারা অভিযোগ করেন, জেলা পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন নাসরিন এক সভায় অশালীন আচরণ করেছেন। তিনি করোনাভাইরাস মোকাবেলায় হতদরিদ্রদের জন্য জেলা পরিষদের বরাদ্দের অর্থ দিয়ে নিজের পছন্দের ক্রয় কমিটি করে নিম্নমানের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী কেনেন ও তা সদস্যদের বিতরণের জন্য সরবরাহ করেন। এর মধ্য দিয়ে দুর্নীতি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শনিবার বিকেলে করোনা মোকাবেলায় জেলা পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ ও দরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ বিষয়ে এক জরুরি সভা হয়। সভায় সদস্যরা প্রত্যেক এলাকার জন্য ৫০০ প্যাকেট করে খাদ্যসামগ্রী বরাদ্দের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে ইতিপূর্বে সরবরাহকৃত নিম্নমানের নিরাপত্তাসামগ্রী নিয়ে সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। এ সময় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে উপস্থিত জেলা পরিষদের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হল ত্যাগ করতে বলেন এবং তিনি নিজেও চলে যান। যা ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অশালীন আচরণ বলে মনে করেন তারা। ওই সভায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খানও উপস্থিত ছিলেন। পরে ওইদিন রাতে জরুরি সাংবাদ সম্মেলন করে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন নাসরিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি অভিযোপত্র পাঠানো হয়।
এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন নাসরিন বলেন, পরিষদের সদস্যরা আমাকে হেয় করে বক্তব্য রাখায় আমি মনক্ষুণ্ণ হয়ে সভাস্থল ত্যাগ করি। তবে দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি আরও বলেন, করোনা মোকাবেলায় চেয়ারম্যান মহোদয়ের নেতৃত্বে গঠিত ক্রয় কমিটি স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী কিনেছে। এছাড়া খাদ্যসামগ্রী বিতরণের জন্য সদস্যরা নগদ টাকা চেয়েছেন। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বা পিপিআর অনুযায়ী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমি আমার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেছি সদস্যদের কাছে। এতে তারা নাখোশ হন।
