কেন্দুয়া
ভাতার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা
সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা)
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৩ | ১৮:০০
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতা জমা হয়। এ টাকা দিয়ে ঈদের কেনাকাটা করার জন্য অধির আগ্রহে বসে ছিলেন অসহায় মানুষ। কিন্তু উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে একটি মোবাইল নম্বর থেকে ভাতাভোগীদের কল দিয়ে হিসাব নম্বরের পিনকোড ও ওটিপি জানতে চায়। কর্মকর্তা পরিচয় পেয়ে পিনকোড ও ওটিপি নম্বর দিয়ে দেন তাঁরা। এর পরই চলতি জুন মাসে আসা ভাতা হাতিয়ে নিয়ে গেছে প্রতারকরা। এতে মাথায় হাত পড়েছে কেন্দুয়া উপজেলার বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর অধিকাংশ মানুষের।
উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, উপজেলা বয়স্কভাতাভোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৪৪৩, বিধবা ভাতাভোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৯৮৯ ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ৫ হাজার ৬৪৫ জন। প্রতি তিন মাস, ছয় মাস এবং ক্ষেত্রবিশেষ এক বছর পর পর তাঁদের মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব নম্বরে ভাতা জমা হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে পুরোনো এবং নতুন তালিকাভুক্ত ভাতাভোগীদের টাকা চলতি জুন মাসে তাঁদের হিসাব নম্বরে জমা হয়। টাকা জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতারক চক্রটি অনেক ভাতাভোগীর কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যাঁদের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাঁদের নগদ এজেন্ট পয়েন্টে গিয়ে তথ্য হালনাগাদ করতে হবে। অথবা নতুন হিসাব খোলা মোবাইল নম্বর সমাজসেবা অফিসে জমা দিতে হবে। তা না হলে আবার টাকা এলে হাতিয়ে নেবে প্রতারক চক্রটি।
সান্দিকোনা ইউনিয়নের আটিগ্রামের বাসিন্দা আবেদা খাতুন জানান, তাঁর ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে এবারই প্রথম ১০ হাজার ২০০ টাকা জমা হয়েছিল। কিন্তু গত ৬ জুন সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তা
পরিচয় দিয়ে পিনকোড জানতে চায়। সরল বিশ্বাসে অফিসের কর্মকর্তা ভেবে পিনকোডটি তাঁকে দিয়ে দেন। পরে দেখতে পান, হিসাবে আর কোনো টাকা নেই। এখন কী করবেন, ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছেন না তিনি।
‘বৃদ্ধ নূরুল ইসলামের দাবি, তাঁর মতো অনেক বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর টাকা নিয়ে গেছে প্রতারকরা। কৌশল একটাই পিনকোড নম্বর চাওয়ার আগে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দেয়।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাবেরী জালালকে বিষয়টি জানান, পাইকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইসলাম উদ্দিন, আশুজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলী, গড়াডোবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খান সোহাগ, মাসকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বাঙ্গালী ও গন্ডা ইউনিয়ন পারিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম আকন্দ।
তাঁরা বলেন, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ভাতাভোগীদের পিনকোড নিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে প্রতারক চক্র। এ বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাবেরী জালাল বলেন, তদন্ত করে দেখে দু-চারজনকে ধরে জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইউনুস রহমানের ভাষ্য, প্রতারক চক্র থেকে সতর্ক থাকার জন্য ভাতাভোগীদের সতর্ক করা হয়েছে। এর পরও পিনকোড নিয়ে প্রতারক চক্রটি ভাতা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- ভাতার টাকা
- প্রতারণা
- কেন্দুয়া