পরিষদের নাকের ডগায় জলাবদ্ধতা
কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদের সামনে ভাঙাচোরা সড়কে জমে আছে বৃষ্টির পানি- সমকাল
কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০
কেন্দুয়ার জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তর উপজেলা পরিষদ। অথচ প্রতিষ্ঠানটির নাকের ডগায় যেন জমে থাকে বৃষ্টির পানি। এর জন্য এলজিইডির অবহেলাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় খানাখন্দে ভরে গেছে কেন্দুয়া-সাজিউড়া সড়ক। বৃষ্টি হলেই উপজেলা পরিষদের ফটকের সামনের রাস্তায় ঢেউ খেলে হাঁটুপানি।
উপজেলা শহর থেকে সাজিউড়া হয়ে মামুদপুর পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার রাস্তায় প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। খানাখন্দে ভরে যাওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে যানবাহন। অটোরিকশা চালক উত্তম বলেন, ‘পেটের দাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তায় গাড়ি চালাই। এ রাস্তায় গাড়ি চালানোর উপযোগী না।’ একই ধরনের কথা বলেন রিকশাচালক উছেন আলী। তিনি বলেন, ‘রিকশা চালিয়ে প্রতিদিন ডাল-চাল কিনি, এই রাস্তায় এক দিন রিকশা চালাইলে শইলের (শরীর) বেদনায় দুই দিন বিছনায় শুয়া থাহন লাগে।’
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় ইউপি সদস্য রহিম উদ্দিনের সঙ্গে। তাঁর ভাষ্য, সাজিউড়ায় একটি বাজার, তাম্বুলিপাড়ায় একটি ন্যাচারাল পার্ক এবং মামুদপুরেও একটি বাজার আছে। এই তিন জায়গায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের আনাগোনা। যানবাহন চলে শতাধিক। কিন্তু রাস্তাটি ছোট-বড় গর্তে ভরে গেছে। এখন যানবাহন চালাতে খুব কষ্ট হয় চালকদের। রাস্তাটি দ্রুত মেরামত না করলে আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে আর যানবাহন চালানো সম্ভব হবে না। এলাকাটি পিছিয়ে যাবে।
বেহাল রাস্তার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দিগদাইর গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঞা সবুজ। তিনি বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের সামনের রাস্তায় হাঁটুপানি। এটা কি কারও চোখে পড়ে না। জনগণের এই দুর্ভোগ দূর করা দরকার। আপনারা এই বিষয়গুলো পত্রিকায় তুলে ধরুন, তাহলেই কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙবে।’
এই রাস্তা সংস্কারের জন্য উপজেলা পরিষদের সমন্বয় কমিটিতে আলোচনা করা হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় জনগণের দুর্দশা বেড়েই চলছে বলে দাবি করেছেন চিরাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল কবির খান।
কেন্দুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান নূরুল ইসলামের ভাষ্য, কিছুদিন আগে পরিষদের সামনে ভাঙা রাস্তায় কিছু ইট সুরকি ফেলা হয়। কিন্তু অনেক বেশি গাড়ি চলাচল করায় এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় তা নষ্ট হয়ে গেছে।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় কেন্দুয়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘রাস্তাটির অবস্থা খুবই শোচনীয় এটা আমরাও স্বীকার করি। এই রাস্তায় যান চলাচলও হয় অনেক বেশি। রাস্তাটিকে প্রশস্ত করার চিন্তায় সংস্কার কাজ পিছিয়ে গেছে। তবে চলতি অর্থবছরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য এক নম্বরে রাখা হয়েছে।’
- বিষয় :
- উপজেলা পরিষদ
- কেন্দুয়া