ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্বপ্ন দেখাচ্ছে টিটিসি

স্বপ্ন দেখাচ্ছে টিটিসি
×

নবনির্মিত ফেঞ্চুগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র-সমকাল

মামুনুর রশীদ, ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট)

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০

শূন্য চোখে প্রাপ্তির প্রত্যাশা ছিল না। ফেঞ্চুগঞ্জের এমন হাজারো তরুণের চোখে হতাশা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন আঁকছে ফেঞ্চুগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)।

গত ৮ জুলাই প্রতিষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ। জনশক্তি প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পাইলট প্রকল্পের অধীনে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের ফেঞ্চুগঞ্জ সেতুর টোল প্লাজার পাশে ১ দশমিক ৫০ একর জমির ওপর কেন্দ্রটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

এখানে রয়েছে চারতলা ভবনের মূল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, তিনতলাবিশিষ্ট একটি ডরমিটরি ও চারতলাবিশিষ্ট শিক্ষকদের আবাসিক ভবন। এ প্রশিক্ষণকেন্দ্রের ৬টি ট্রেডে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে তরুণদের। ট্রেডগুলোর মধ্যে রয়েছে– ইলেট্রিক্যাল, ইলেট্রনিকস, আইটি সাপোর্ট টেকনিশিয়ান (কম্পিউটার অপারেটর), অটোমেকানিক ডিজেল ইঞ্জিন, মেশিন টুলস অপারেশন ও রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং (আরসি)। ছয় মাসের কোর্সে প্রতিটি ট্রেডের ব্যাচে ১৬০ জন প্রশিক্ষণার্থী ভর্তির সুযোগ পাবেন। বিদেশ গমনেচ্ছু হাউস কিপিং ভিসায় বিদেশগামী নারীদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এখানে।

স্থানীয় তরুণ সারওয়ার খান জানান, এ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বেকারত্ব দূরীকরণ সম্ভব। বেকার তরুণদের কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে জনশক্তিতে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে বিশাল সম্ভাবনার ক্ষেত্র উন্মোচিত হলো।

অপু বিশ্বাস নামে আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার পথ উন্মোচিত হওয়ায় এ অঞ্চলে বেকারত্বের হার আরও কমে আসবে। এ প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে, যা খুবই সময়োপযোগী।

কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম জানান, শিগগির এ কেন্দ্রের জন্য লোকবল নিয়োগ দেওয়া হবে। এরপরই শুরু হবে কার্যক্রম। এ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সনদপত্র আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে। যা বিদেশে ভালো কাজ পেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আহমেদ মনিরুছ সালেহীন জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট অঞ্চলের শ্রমবাজার সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি শ্রমশক্তি প্রযুক্তিগতভাবে আরও দক্ষতা অর্জনে সফল হবে। এ প্রকল্প যেমন দেশের শ্রমশক্তিকে দক্ষ হয়ে উঠতে সাহায্য করবে, তেমনি বেকারত্ব ও দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ সমকালকে বলেন, ‘প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ না হলে স্মার্ট বাংলাদেশ করা যাবে না। টিটিসির প্রশিক্ষণার্থীরা দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন ও সম্মান পাবেন। এখন বহির্বিশ্বে দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা বেশি। সেটি বিবেচনা করেই দেশের ৪০টি উপজেলায় ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন

×