খুলনায় নাগরিক সংলাপে বক্তারা
পরিবেশ সুরক্ষায় নদী বাঁচানোর তাগিদ
খুলনা নগরীর পরিবেশ বিপর্যয় রোধে শুক্রবার স্থানীয় প্রেস ক্লাবে নাগরিক সংলাপে অতিথিরা-সমকাল
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০
খুলনা মহানগরীর তিন দিকে রূপসা, ভৈরব, ময়ূর ও কাজীবাছা নদী। দূষণ ও দখলে এসব নদীর বেহাল দশা। পরিবেশে নেমে এসেছে বিপর্যয়। এর মধ্যে রূপসা ও ভৈরবের পরিণতি হতে চলেছে ঢাকার বুড়িগঙ্গা। পরিবেশ সুরক্ষায় নদনদী বাঁচাতে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা ও আইনের সঠিক প্রয়োগ জরুরি।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে খুলনা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ‘খুলনা মহানগরীর পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে প্রয়োজন, রূপসা, ভৈরব, ময়ূর ও কাজীবাছা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে বক্তারা এ অভিমত দেন। ওয়াটার কিপারস বাংলাদেশ, কোস্টাল ভয়েস অব বাংলাদেশ (কব) এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন এ সংলাপের যৌথ আয়োজক।
ওয়াটার কিপারস বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল নদনদী দূষণ ও দখল প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘নদী বাঁচাতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং সব জলাশয়কে দূষণমুক্ত রাখতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখনই ব্যবস্থা না নিলে রূপসা ও ভৈরব হবে আগামীর বুড়িগঙ্গা। নদীর দূষণ ও দখলে জড়িত ব্যক্তিরা শক্তিশালী। তাদের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে। দূষণ ও দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, তাদের জেলে পাঠাতে হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, ‘খুলনার নদনদী ভরাট হয়ে স্বাভাবিক নাব্য হারিয়েছে। দখল হয়ে গেছে নদীর দুই তীর। নদনদী বাঁচাতে অবিলম্বে পুনর্খনন জরুরি। দখলদার উচ্ছেদে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কঠোর অবস্থান ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’
সংলাপে অন্যদের মধ্যে কোস্টাল ভয়েস অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক কৌশিক দে, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব হেদায়েৎ হোসেন মোল্লা, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রকিব উদ্দিন পান্নু, ডিইউজের সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাকিলা পারভীন, গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের সৈয়দ মিজানুর রহমান, সাংবাদিক ইয়াসিন আরাফাত রুমি, আবদুল্লাহ আল মামুন রুবেল, অ্যাওসেডের সহকারী সমন্বয়কারী হেলেনা খাতুন, সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব বাবুল হাওলাদার, ছাত্রনেতা সৌমিত্র সৌরভ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, রূপসা ও ভৈরব নদীর তীরে গড়ে ওঠা ছোট-বড় অসংখ্য শিল্পকারখানা থেকে প্রতিদিন রাসায়নিক বর্জ্য, পয়োবর্জ্যসহ ময়লা-আবর্জনা পড়ে পানি বিষিয়ে তুলছে। অনেক কারখানা নিয়ম মেনে বর্জ্য শোধন করছে না। অবৈধ দখলে সংকুচিত হয়ে গেছে খাল ও নদী। সব মিলিয়ে নগরীর পরিবেশ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে। নদনদী দখল ও দূষণমুক্ত করতে নাগরিক সমাজকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
