করোনা আক্রান্ত এলাকা থেকে ট্রাকে ফিরছেন শ্রমিকরা, ঝুঁকিতে কয়রাবাসী
শেখ হারুন অর রশিদ, কয়রা (খুলনা)
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২০ | ০৯:৩৩ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
খুলনার কয়রা উপজেলা থেকে প্রতিবছর ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতে যান কয়েক হাজার নারী-পুরুষ। ডিসেম্বরের শুরুতে কাজে যোগ দিয়ে এপ্রিলের শেষের দিকে ফিরতে শুরু করেন তারা। তবে এবার করোনা আতঙ্কে অনেক শ্রমিক আগেই ফিরতে শুরু করেছেন। এলাকা লকডাউন থাকায় যারা ফিরতে পারেননি, তাদের কেউ কেউ এখন লুকিয়ে মালবাহী ট্রাকের ছাদে অথবা অন্য উপায়ে এলাকায় ফিরছেন।
শনিবার ভোরে এ রকম মালবাহী তিনটি ট্রাকসহ ৬০ শ্রমিককে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা প্রতিরোধে খুলনা জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এ মুহূর্তে বাইরে থেকে কাউকে এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। একই সঙ্গে কারও এলাকার বাইরে যাওয়ার অনুমতি নেই। এ অবস্থায় শনিবার ভোরে তিনটি ট্রাকে করে মানিকগঞ্জ থেকে কয়রায় ফিরেছেন ৬০ জন শ্রমিক। তারা সবাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তাদের আটক করে এক স্থানে রাখা হয়। পরে ইউএনও ঘটনাস্থলে পৌঁছে কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতের শর্তে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের কাছে তাদের হস্তান্তর করেন। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিন ট্রাকচালককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। স্থানীয়রা জানান, গত এক সপ্তাহে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর, কুমিল্লাসহ করোনা আক্রান্ত জেলা থেকে হাজারখানেক শ্রমিক এলাকায় ফিরেছেন। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন কৌশলে তারা মালবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স অথবা ছোটখাটো যানবাহনে গাদাগাদি করে বাড়ি ফিরেছেন। ফলে এলাকায় করোনাভাইরাসের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ট্রাকে আসা শ্রমিক আবুল হোসেন জানান, বিপদে পরিবারের সবাই একসঙ্গে থাকার জন্য ঝুঁকি নিয়েই তিনি বাড়ি ফিরেছেন। শ্রমিক আ. সাত্তার ঢাকার মানিকগঞ্জে একটি ইটভাটায় কাজ করেন। ভোরে ট্রাকে ফিরেছেন তিনি। তিনি বলেন, করোনার ভয়ে ভাটা মালিকরা আগেই ছেড়ে দিয়েছেন। অনেকেই বেতন পাননি। এর পরও তারা ভয়ে সবাই মিলে তিনটি ট্রাক ভাড়া করে এলাকায় ফিরেছেন।
কয়রা উপজলো স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুদীপ বালা জানান, করোনা প্রতিরোধে শিল্পকারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব শ্রমিক একই গাড়িতে ঠাসাঠাসি করে বাড়ি ফিরছেন। এতে এলাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। করোনা আক্রান্ত এলাকা থেকে ফিরে আসা শ্রমিকদের কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতের আহ্বান জানান তিনি।
ইউএনও শিমুল কুমার সাহা বলেন, যারা ট্রাকে করে ফিরেছেন, তারা কোয়ারেন্টাইনে আছেন। তিনি আরও বলেন, এ মুহূর্তে দেশের যে যেখানে আছেন, তাদের সেখানেই অবস্থান করার নির্দেশনা রয়েছে। এর মধ্যে কিছু লোক গোপনে এলাকায় ঢুকতে চেষ্টা করছেন। তাদের ব্যাপারে আমরা সতর্ক আছি।
