নবজাতকের মাথা বিচ্ছিন্ন, দেহ থাকল মায়ের গর্ভেই
প্রতীকী ছবি
নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২০ | ১১:০৬ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
পিরোজপুরের নাজিরপুরে প্রসুতির স্বাভাবিক ডেলিভারির সময় নবজাতকের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন নার্স।
শনিবার ভোর ৪টার দিকে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর অসুস্থ থাকা ওই প্রসুতির নাম আঁখি আক্তার (২০)। তিনি উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য কলারদোয়ানিয়া গ্রামের আসাদুজ্জামানের স্ত্রী।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাথী মল্লিক ও অপু হালদার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্স।
ঘটনার সময় ওই দুই নার্স কর্তব্যরত চিকিৎসক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলে বারীকে না জানিয়ে ওই প্রসুতিকে পিরোজপুর শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেন।
পরে ওই ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে গর্ভ থেকে নবজাতকের দেহ বের করা হলেও প্রসুতির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক মতিন সরদার। তিনি বলেন, প্রসুতির রক্তপাত বন্ধ না হওয়ায় ২৪ ঘণ্টা না যাওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না।
প্রসুতির মা মানছুরা বেগম জানান, শুক্রবার রাতে আঁখিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ভোরে তার সামান্য প্রসবব্যথা উঠলেই নার্স সাথী মল্লিক ও অপু হালদার সুন্দরভাবে ডেলিভারি করাবেন জানিয়ে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে তারা ডেলিভারি করতে গিয়ে নবজাতকের মাথা ছিঁড়ে ফেলে এবং বিষয়টি গোপন করার
চেষ্টা করেন। পরে তারা আঁখিকে বাঁচাতে হলে দ্রুত পিরোজপুর ফেয়ার ক্লিনিকে ডা. মতিন সরদারের কাছে নিয়ে যেতে বলে এবং তড়িঘড়ি করে একটি অ্যাম্বলেন্সে তুলে দেন।
এ বিষয় জানতে অভিযুক্ত ওই দুই নার্সের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও কেউই রিসিভ করেননি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলে বারী বলেন, রোগীকে অন্যত্র পাঠানোর পরে বিষয়টি জেনেছি। দুর্ঘটনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক বা নার্স কেউই আমাকে বিষয়টি জানাননি। রোগীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
