হবিগঞ্জ
বিদ্যালয়ে শৌচাগার সংকট
শুক্রিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় - সমকাল
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে ছয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই শৌচাগার। নিজস্ব স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এসব বিদ্যালয়ের ১ হাজার ২২৫ শিক্ষার্থী ও ৩৫ জন শিক্ষককে।
এসব বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শৌচাগারের অভাবে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। ক্লাস শুরুর সময় শিক্ষার্থী উপস্থিতি বেশি থাকলেও দুপুরের দিকে কমে যায়। অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনের মুহূর্তে বাড়ি চলে যায়। এরপর আর ক্লাসে ফেরে না। এতে প্রতিদিনই কমছে শিক্ষার্থী উপস্থিতির সংখ্যা।
আজমিরীগঞ্জ প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা মোট ৬৫। এর মধ্যে শুক্রিবাড়ি, পাহাড়পুর, উদয়পুর, শাহনগর, রামনাথ ও উত্তর রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শৌচাগার নেই। দু-একটি বিদ্যালয়ে অস্থায়ীভাবে টয়লেট নির্মাণ করা হলেও সেগুলো অস্বাস্থ্যকর; ব্যবহারে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনীহা থাকলেও জরুরি প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৪০১ জন ও শিক্ষক আটজন, উদয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৯৩ জন ও ছয়জন শিক্ষক, শাহনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১২৮ জন শিক্ষার্থী ও তিনজন শিক্ষক, রামনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৮৩ জন শিক্ষার্থী ও পাঁচজন শিক্ষক, উত্তর রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০৪ জন শিক্ষার্থী ও ছয়জন শিক্ষক এবং শুক্রিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২১৬ জন শিক্ষার্থী ও সাতজন শিক্ষক রয়েছেন।
বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার না থাকায় অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকেই অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই বাসাবাড়িতে চলে যান। শুক্রিবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দীপা আক্তার জানায়, স্কুলে ভালো টয়লেট না থাকায় খুব সমস্যা হচ্ছে। বাথরুমে যেতে হলে বাড়িতে চলে যেতে হয়। যাদের বাড়ি দূরে তারা আর সেদিন ক্লাসে ফেরে না।
একই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়মন মিয়া জানায়, স্কুলে যে টয়লেটটি আছে, সেটি খুবই নোংরা। দুর্গন্ধ ছড়ায়। এতে সবার সমস্যা হয়।
জিহান আহমেদ নামে এক অভিভাবক জানান, শুক্রিবাড়ি গ্রামে একটি বিদ্যালয় থাকায় শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি। বিদ্যালয়ে টয়লেট না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী তাদের বাড়িতে চলে যায়। এতে তাদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গীতাঞ্জলি দেব জানান, স্কুলে নতুন ভবন নির্মাণের পর থেকেই টয়লেট নেই। এতে বিরাট সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বাধ্য হয়ে অস্থায়ীভাবে একটি টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। সেটি খুবই অস্বাস্থ্যকর।
পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গণেন্দ্র চন্দ্র দাস জানান, তাদের বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নেই। যে কারণে রিং বসিয়ে অস্থায়ী টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী-শিক্ষকের অসুবিধা হচ্ছে।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও সোহরাব জানান, সময়মতো মলত্যাগ না করলে কোষ্ঠকাঠিন্যসহ অন্ত্রজনিত জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়া কিডনি সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মজনুর রহমান জানান, কয়েকটি বিদ্যালয়ে শৌচাগার না থাকায় কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। আবার অনেক বিদ্যালয়ে শৌচাগার থাকলেও নষ্ট হয়ে গেছে। এসব বিদ্যালয়ের তালিকা তৈরি করে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তী পদক্ষেপের নির্দেশনা আসবে।
