অ্যান্টিবায়োটিকে মৃত্যুর জন্য আগ্রাসী বাজারজাতকরণ দায়ী: স্বাস্থ্যের ডিজি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশিদ আলম। ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৩ | ১৬:৫৫ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৩ | ১৬:৫৫
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশিদ আলম বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে অ্যান্টিবায়োটিকের সর্বগ্রাসী ব্যবহার রোধ না করতে পারলে আগামী ২০ বছরে রেকর্ডসংখ্যক রোগী মারা যাবে। এই সংখ্যা ক্যান্সারে মৃত্যুর চেয়ে বেশি হবে। এই পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রাসী বাজারজাতকরণ ও যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি প্রধানভাবে দায়ী।
শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের বালুরমাঠ এলাকায় ব্লু পিয়ার মিলনায়তনে সোসাইটি অব সার্জন অব বাংলাদেশের (এসওএসবি) নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের সায়েন্টিফিক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য মহাপরিচালক বলেন, ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স সারা পৃথিবীর মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটিকে প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের দাবি হলো ‘ওয়ান হেলথ ওয়ান হার্ট।’ অ্যান্টিবোয়োটিক শুধু চিকিৎসকরা ব্যবহার করছেন তা নয়– এটি এখন কৃষিতে, পোলট্রি শিল্পে, এমনকি মশার লার্ভা মারতেও ব্যবহার হচ্ছে।’
খুরশিদ আলম বলেন, ‘সেফালোস্পোরিনের পরে অ্যান্টিবায়োটিকের মৌলিক কোনো উপাদান আবিষ্কার হয়নি। সেফালোস্পোরিনের গঠন পরিবর্তন করে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পণ্য বাজারে ছাড়ছে। তাদের আগ্রাসী বাজারজাতকরণে আমরা সাধারণ জনগণ ও চিকিৎসকরা এগুলো ব্যবহার করছি। জেনে না জেনে কিংবা প্রয়োজনে-অপ্রোয়জনে ব্যবহার হচ্ছে।’
তিনি বলেন, খোলাবাজারে যেভাবে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি হচ্ছে তা প্রতিরোধে সরকার ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিক্স আইন করার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু এই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আইনটি বাস্তবায়ন করা যায়নি।
ডা. একেএম শরিফুল আলম ফেরেদৌসের সভাপতিত্বে ও ডা. এসএম ইফতেখার উদ্দীন সাগরের সঞ্চালনায় সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এফএম মুশিউর রহমান, ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল বাশার, বিএমএ নারায়ণগঞ্জের সভাপতি ডা. চৌধুরী মো. ইকবাল বাহার, সাধারণ সম্পাদক ডা. দেবাশীস সাহা, এসওএসবি নারায়ণগঞ্জের সহসভাপতি অধ্যাপক সাদের উদ্দিন নাঈম ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নূর হোসেন ভূঁইয়া।
