মতিউর রহমানকে অশ্রুসিক্ত বিদায়
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০
নীতি-আদর্শে, সংগ্রামে ও সংকটে আওয়ামী লীগকে আগলে রেখে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিন দশকের বেশি সময়। দলের ‘বটবৃক্ষ’ হিসেবে ঠাঁই করে নিয়েছিলেন ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষের কাছে। কলেজ শিক্ষক থেকে হন মন্ত্রী। ত্যাগী এই নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমানকে শেষবারের মতো অশ্রুসিক্ত বিদায় ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন হাজার হাজার নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ। গতকাল সোমবার শেষবারের মতো দেখতে এসে কেঁদেছেন প্রিয় শিক্ষক ও নেতার ভক্তরা।
গত রোববার খুবই অসুস্থ বোধ করলে ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়ার বাসা থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় তাঁকে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালে নেওয়ার পরই চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে রাত দেড়টার দিকে। তাঁর মৃত্যুর খবরে রাতেই ভিড় করেন অনেক মানুষ। গতকাল সকাল থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত নগরীর আলমগীর মনসুর মিন্টু মেমোরিয়াল কলেজে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের মরদেহ। এই কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন তিনি। ময়মনসিংহের সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি প্রিন্সিপাল মতিউর রহমান নামেই বেশি পরিচিত।
তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পৃথক শোকবার্তায় বলা হয়, মতিউর রহমানের মৃত্যুতে দলের অপূরণীয় ক্ষতি হলো। আমরা হারালাম একজন বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে। এ ছাড়া বিরোধীদলীয় নেতা ও ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের এমপি রওশন এরশাদসহ অনেকেই শোক জানান।
সন্ধ্যায় নগরীর আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠে জানাজার আগে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকসহ প্রতিনিধি দল শ্রদ্ধা জানান। এ সময় শোক জানিয়ে বক্তব্য দেন আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মশিউর রহমান হুমায়ুন, সিটি মেয়র ইকরামুল হক টিটু, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল প্রমুখ।
আলমগীর মনসুর মিন্টু মেমোরিয়াল কলেজে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর পর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নেওয়া হয় জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি মতিউর রহমানের মরদেহ। সেখানে আওয়ামী লীগের পতাকা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় লাশবাহী গাড়ি। সেখান থেকে নেওয়া হয় ঈদগাহ মাঠে। সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আজ মঙ্গলবার নগরীর আকুয়া মোড়লবাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন হবে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মতিউর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র মোহিত উর রহমান শান্ত। মতিউর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন।
তিনি দু’বার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সভাপতি হিসেবে ১৯৯৬ সাল থেকে টানা ১৮ বছর দায়িত্ব পালন করেন।
প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা।
