পানিবন্দি ৪৩ গ্রামের ৫ হাজার পরিবার
রাজীবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের ভেলামারীর চরে ত্রাণের আশায় দাঁড়িয়ে আছেন তারা। ছবি: সমকাল
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৯:০৮ | আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৯:০৮
ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৪৩ গ্রামের ৫ হাজার ২৫৫ পরিবারের মানুষ। তলিয়ে গেছে ১ হাজার ৮৩৮ হেক্টর জমির ফসল। তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়ক। এসব এলাকার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা নৌকা ও কলাগাছের ভেলা।
রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের যাদুরচর চাক্তাবাড়ী, যাদুরচর নতুনগ্রাম, ধনারচর হাট খোলাপাড়া, গোলাবাড়ী আকন্দপাড়া, ধনারচর কাটিয়ামারী, ধনারচর চরেরগ্রাম, ধনারচর নতুনগ্রাম, ধনারচর পশ্চিমপাড়া, কোমরভাঙ্গি পুরাতনপাড়া, চরশৌলমারী ইউনিয়নের চর গেন্দার আলগা, ঘুঘুমারী, সুখেরবাতি, নয়াপাড়া, পশ্চিম খেদাইমারী ও মশালের চর, বন্দবের ইউনিয়নের ফলুয়ারচর, বাঘমারা, পালেরচর, বলদমারাসহ ২৫ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি। এ ছাড়া রাজীবপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া, জাউনিয়ার চর লম্বাপাড়া, কড়াইডাঙ্গী পাড়া, পশ্চিম রাজীবপুর, কোদালকাটি ইউনিয়নের উত্তর কোদালকাটি, ভেলামারী, আনন্দবাজার, শংকর মাধবপুর, বিলপাড়া সাজাই সরকারপাড়া, বদরপুর ও মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের কির্ত্তনটারী, বড়বের চর, কাদেরের চরসহ ১৮ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
যাদুরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরবেশ আলীর ভাষ্য, তাঁর ইউনিয়নের ১২ গ্রামের তিন হাজার পরিবারের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ৩৩০টি পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি করে জিআরের চাল বিতরণ করা হয়েছে।
তবে চরশৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. তুহিন বলেন, তাঁর এলাকার পানিবন্দি মানুষের মাঝে এখনও ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি।
যাদুরচর ইউনিয়নের ধনারচর নতুনগ্রাম এলাকার মামুন মোল্লা জানান, বাড়ির চারপাশে এক বুক পানি। এ কারণে বাড়ি থেকে বাজার করার জন্য বের হতে পারছেন না তিনি।
চরশৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাতি এলাকার কৃষক আমির হামজা বলেন, ‘অনেক কষ্টে চার বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছি। কিন্তু বন্যার পানিতে সব ডুবে গেছে।’
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় কোদালকাটি ইউনিয়নের বিলপাড়া এলাকার দিনমজুর আনিছুর রহমানের সঙ্গে। তাঁর ভাষ্য, ব্রহ্মপুত্রে পানি বাড়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন তিনি। এ কারণে দিনমজুরের কাজে যেতে পারছেন না তিনি। একই ইউনিয়নের উত্তর কোদালকাটি গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, তাঁর দুই বিঘা জমিতে রোপা আমন রোপণ করেছিলেন। কিন্তু সব ফসল বানের পানিতে তলিয়ে গেছে।
রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরীর দাবি, ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়ার কারণে চরশৌলমারী, বন্দবের ও যাদুরচর ইউনিয়নের ৮৩৩ হেক্টর ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে আমন ৭৮০, বীজতলা ৭ ও শাকসবজি ৪৬ হেক্টর।
রাজীবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন মিয়া জানান, রাজীবপুরে ১ হাজার ৫ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।
রৌমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেশকাতুর রহমানের দাবি, ৫১ টন জিআরের চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩৫ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খান বলেন, ব্রহ্মপুত্রে পানি বাড়ার কারণে চারটি ইউনিয়নের ২৫ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিবন্দি পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান।
রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ জানান, তিনটি ইউনিয়নের ১৮ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি। এ পর্যন্ত ৩২ টন জিআরের চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সাড়ে ২০ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। প্রতি পরিবারকে দেওয়া হয়েছে ১০ কেজি চাল।
