কুড়িগ্রামে আরও একজন করোনা পজেটিভ শনাক্ত
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২০ | ০০:৩৫ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের পাঠানপাড়া গ্রামে ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছেন। রংপুর মেডিকেল কলেজে স্থাপিত পরীক্ষাগারে তার নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পজেটিভ এসেছে। সোমবার বিকেলে এ ফলাফল আসে। এ নিয়ে জেলায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩ জনে দাঁড়িয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান।
সোমবার রাত ৯টার দিকে ওই এলাকায় গিয়ে আক্রান্ত ব্যাক্তির বাড়িসহ চারদিকের ১০টি করে বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করেছেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম। পাশাপাশি পূর্ব কল্যাণ গ্রামে অবস্থিত আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বশুরবাড়ি এবং চারদিকের ১০টি করে বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। এসব বাড়ি থেকে কাউকে বের হতে এবং ঢুকতে নিষেধ করা হয়েছে। এই ঘোষণা দেওয়ার সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলাম ও বেলগাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহবুবার রহমান উপস্থিত ছিলেন। পরে এই নির্দেশনার গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
এছাড়া সোমবার রাত সাড়ে ১০টার ওই আক্রান্ত রোগীকে জেলা সদরের জেনারেল হাসপাতালের করোনাভাইরাস আইসোলেশন ওয়ার্ডে আনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রেদোয়ান ফেরদৌস।
এ দিকে সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মাহবুবার রহমান জানান, বেলগাছা মৌজার পাঠানপাড়া গ্রামের অধিবাসী ওই ব্যক্তি নায়ায়ণগঞ্জে গার্মেন্টসে কাজ করতেন। তিনি গত ১৩ এপ্রিল বাড়িতে আসেন।
সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলাম জানান, গত শনিবার (১৬ এপ্রিল) তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজে পাঠানো হলে সোমবার ফলাফল পজেটিভ এসেছে। ওই ব্যক্তি এবং তার পরিবারের ৫ জনকে তখন থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, জেলা থেকে এ পর্যন্ত ২৯৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপিত পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার বিকেল পর্যন্ত ১৭৬ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল এসেছে। তার মধ্যে ৩ জনের ফলাফল পজেটিভ এসেছে। এদের মধ্যে একজনকে জেনারেল হাসপাতালে, একজনকে রৌমারী উপজেলা হাসপাতালে এবং একজনকে ফুলবাড়ী উপজেলা হাসপাতালের করোনাভাইরাস আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে। এ নিয়ে মঙ্গলবার মোট ৪৯৮ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। আর মেয়াদ শেষ হওযায় ৪২৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে অবমুক্ত করা হয়েছে।
