ত্রাণ পাননি মাদারগঞ্জের আশ্রয়ণ ও গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা
মাদারগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২০ | ০৪:০৫ | আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২০ | ০৫:৩২
জামালপুরের মাদারগঞ্জে আশ্রয়ণ ও গুচ্ছ গ্রামের কয়েকশ' দরিদ্র পরিবার ত্রাণ সহায়তা পাননি। করোনার প্রাদুর্ভাবে সংকটে পড়া শ্রমজীবী ওই মানুষগুলোর দিন কাটছে কষ্টে। উপজেলার ভূমিহীনদের নিয়ে গড়ে উঠেছে এসব গুচ্ছ গ্রাম ও আশ্রয়ণ প্রকল্প; যাদের অধিকাংশ পরিবার দিনমজুর ও ভ্যানচালক।
ভিটেমাটি না থাকায় সরকারের আবাসন প্রকল্পে ঠাঁই হয় এসব পরিবারের সদস্যদের। আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, কাজ নেই তাই ঘরে খাবারও নেই, কোনোভাবে কষ্টে দিন যাচ্ছে। গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা হাছনা বেগম বলেন, দিনমজুর স্বামী কাজ করতে না পারায় ছেলে-মেয়েদের কী খাবার দেবো চিন্তায় আছি। ঘরের বাইরে যেতে পুলিশ নিষেধ করে গেছে। তাই ভয়ে ঘরের বাইরে যাচ্ছি না।
বালজিুড়ী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুল হাই বলেন, করোনাভাইরাস আসা পর্যন্ত ১টি গুচ্ছ গ্রাম ও ৪টি আশ্রয়ণের ২৩৭টি পরিবার সরকারি ত্রাণ সহায়তা পায়নি।
বালিজুড়ী ইউনিয়নের চেয়াম্যান মোজাম্মেল হক ভগলা জানান, আশ্রয়ণ ও গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য জেলা প্রশাসক আলাদা করে বরাদ্দ দিয়েছেন। ১২টন চাল খুব দ্রুত বিতরণ করা হবে। এছাড়া বাসিন্দাদের অনেকেই ভিজিডি কার্ড সুবিধা পাচ্ছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার জাহিদ হাসান বলেন, মাদারগঞ্জে নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পেয়েছিলাম। প্রাপ্ত বরাদ্দের মধ্যে হোটেল শ্রমিক ও হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। আশ্রয়নের বাসিন্দাদের জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ ছিল না। জেলা প্রশাসক আশ্রয়ণের ও গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য সাড়ে ১৮ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছেন। খুব দ্রত তা বিতরণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলার পৌরসভাসহ ও ৭টি ইউনিয়নে ভ্যানচালক, রিকশাচালক ও দিনমজুরদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণের স্বল্পতার কারণে প্রথম ব্যবস্থায় আশ্রয়ণে বিতরণ সম্ভব হয়নি। নতুন বরাদ্দ পেয়েছি , আশ্রয়ণের জন্য ২০ এপ্রিল ত্রাণ বিভাজন করা হয়েছে। যেকােন সময় বিতরণ করা হবে।
