ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চেয়ারম্যানের দখল থেকে ভূমি উদ্ধার প্রশাসনের

চেয়ারম্যানের দখল থেকে ভূমি উদ্ধার প্রশাসনের
×

৮৬ শতাংশ খাস জমি উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। ছবি: সমকাল

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৩ | ১৪:৩৫ | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৩ | ১৪:৩৫

পটুয়াখালীর বাউফল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলামের দখল থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাস জমি উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। বাউফল পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত ৮৬ শতাংশ খাস জমিতে মুরগির খামার ও মাছের ঘের তৈরি করে দখলে রেখেছিলেন জাহিদুল। শুক্রবার দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক কুমার কুণ্ডু ও জমিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। 

উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত মাস আগে সরকারি ওই জমিতে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয় এবং জাহিদুলকে সরকারি জমি দখলমুক্ত করে দেওয়ার জন্য বলা হয়। কিন্তু তিনি তা আমলে নেননি। সম্প্রতি ওই জমিতে উপজেলা সহকারী ভূমি অফিসের  লাগানো সরকারি সাইনবোর্ড ফেলে দিয়ে নতুন করে ঘর ও মুরগির খামার নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছিলেন। 

সরেজমিন দেখা যায়, একটি কাঠের ঘরের অবকাঠামো তৈরি করে ছাউনি ও বেড়ার দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। শ্রমিকেরা বিশাল মাছের ঘেরের ওপর জাল টাঙিয়ে দিচ্ছেন। ঘেরের দক্ষিণ পাশে সিমেন্ট ও সুরকি দিয়ে তৈরি পিলার সারিবদ্ধভাবে পুঁতে রাখা হয়েছে মুরগির খামার করার জন্য। পাশেই সরকারিভাবে টাঙিয়ে দেওয়া সাইনবোর্ডটি মাটিতে পড়ে আছে। শ্রমিকেরা জানান, চেয়ারম্যান জাহিদুল তাদের দিয়ে এই কাজ করাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই এলাকার প্রতি শতাংশ জমির মূল্য পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা। চেয়ারম্যানের দখল করা ৮৬ শতাংশ খাস জমির মূল্য পাঁচ কোটি টাকারও বেশি।

বাউফল সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, জমিটা সরকারি তাতে কোনো সন্দেহ নাই। তবে দীর্ঘ বছর ধরে তাঁর বাবা ও তাদের দখলে আছে। তিনি মাছের ঘের ও মুরগির থামার তৈরি করছিলেন। তবে সরকারের প্রয়োজন হলে ছেড়ে দিবেন। 

উপজেলা সহকারী কমিশনার প্রতীক কুমার কুণ্ডু বলেন, খামারের অর্ধেক পরিমাণ ঘর ভেঙে ফেলার পর ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল উপস্থিত হন। তিনি নিজ উদ্যোগে সবকিছু সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শুক্রবার বিকেলের মধ্যে ঘর ও মালপত্র সরিয়ে না নিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 





আরও পড়ুন

×