যশোরের সংসদ সদস্যরা করোনায় যা করছেন
যশোর অফিস
প্রকাশ: ০২ মে ২০২০ | ০৬:০১ | আপডেট: ০২ মে ২০২০ | ০৭:১৯
যশোর জেলার ছয়টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে করোনাভাইরাসের প্রভাবে উদ্ভুত পরিস্থিতির শুরু থেকে এলাকায় রয়েছেন সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) ডা. নাসির উদ্দিন। সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছেন। এ ছাড়া চালু করেছেন ‘রোগীর বাড়ি ডাক্তার’ কর্মসূচি। শহরে কিংবা গ্রামে কেউ অসুস্থ হলে নির্দিষ্ট হটলাইন নম্বরে ফোন করে জানালে চিকিৎসক নিজেই গিয়ে হাজির হন তার বাড়িতে।
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘সাংসদ ছাড়াও আমি একজন চিকিৎসক এবং মুক্তিযোদ্ধা। জাতির এমন সঙ্কটে আমার দায়টা তাই একটু বেশি। মানুষের প্রতি আমার সেই দায়বোধের কারণেই যতটুকু সম্ভব মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।’
ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম জানান, ত্রাণসহ সব ধরণের সরকারি সহায়তা যেন যথাযথভাবে মানুষের দ্বোরগোড়ায় পৌঁছায় সে ব্যাপারে মাঠে থেকে মনিটরিং করছেন সাংসদ নাসির। খোঁজখবর রাখছেন চিকিৎসাসহ অন্যান্য ব্যাপারেও।
ত্রাণ তৎপরতায় এগিয়ে আছেন যশোর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদও। তার পক্ষে এ আসনের সবক’টি ইউনিয়নে খাদ্য সামগ্রী বিতরণসহ সরবরাহ করা হচ্ছে অন্যান্য সামগ্রীও। তিনি নিজেও দু’দিন যশোরে অবস্থান করে ত্রাণ তৎপরতা চালান।
সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান মিন্টু জানান, এলাকায় থাকতে না পারলেও সাংসদ নাবিল সার্বক্ষণিক ত্রাণ তৎপরতার ব্যাপারে মনিটরিং করছেন। ইতিমধ্যে তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে পুলিশ সুপার ও দলীয় কর্মীদের মাধ্যমে পাঁচ হাজারের অধিক পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশকে পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট, জনগণের মধ্যে বিপুল পরিমাণ মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়েছে। সাংসদ নাবিল নিজে এবং তার পক্ষে নেতারা সবসময় কর্মী ও ভোটারদের স্বাস্থ্যগত ও অন্যান্য বিষয়েও খোঁজখবর রাখছেন।
আওয়ামী লীগ নেতা মিন্টু আরও জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাংসদ নাবিলের পক্ষে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনও তার নির্বাচনী এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে পাঁচহাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন তিনি। পুষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে তার খাদ্যসহায়তার তালিকায় চাল-ডাল-তেল ছাড়াও রাখা হয় বিপুল পরিমাণ ডিম। অচলাবস্থার কারণে মানবেতর পরিস্থিতির শিকার দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলের কয়েক হাজার শ্রমিকদের জন্য তিনি নিজস্ব অর্থায়নে নিয়েছেন বিশেষ সহায়তা প্রকল্প।
সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, করোনার কারণে তার এলাকার কোন মানুষকে যেন অনাহারে না কাটাতে হয় সে ব্যাপারে তিনি সবসময় সতর্ক রয়েছেন।
যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্যর পক্ষেও ত্রাণ তৎপরতা চালানো হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সজীব কুশারী জানান, গ্রাম ভিত্তিক কর্মহীন অসহায় পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করে তাদেরকে সরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ কাজে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মীদেরকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
তবে যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য রণজিৎ কুমার রায়কে গত কয়েকদিন করোনা সংক্রান্ত দু’একটা সভাতে দেখা গেলেও শুরু থেকে তার কোন তৎপরতার খবর জানা যায়নি। বরং এ নিয়ে নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষ ও খোদ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদেরকেও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
এদিকে করোনার কারণে জেলার অপর নির্বাচনী আসন যশোর-৬ (কেশবপুর) উপ-নির্বাচন স্থগিত থাকলেও এ আসনে সরকারদলীয় প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের উদ্যোগে উপজেলার ৭ হাজার ৮০০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসকদের মধ্যে তিনশ’ পিপিই, ১৩ হাজার সাবান, ১৫ হাজার হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ২০ হাজার মাস্ক বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া তিনি জেলার আট উপজেলায় ১০ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসকদের মাঝে পিপিই, কয়েক হাজার হ্যান্ড স্যানিটাইজার ছাড়াও করোনা চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন, ইসিজি মেশিন ও হ্যা- থার্মাল দান করেন। তার সব অনুদানই প্রদান করা হয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে। এ ছাড়া জেলাব্যাপাী বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস দিচ্ছেন তিনি।