গাংনীতে তিন মাসে ছয় মামলা, একজন গ্রেপ্তার
মেহেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৫৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় গত তিন মাসে অন্তত সাত জায়গায় বোমাসদৃশ বস্তু ও হুমকিসংবলিত চিরকুট উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একটি ঘটনায় বিজিবি গাংনী থানায় মামলা করেছে। অন্য ছয় ঘটনার পাঁচটিতে মামলা ও একটিতে জিডি করেছে পুলিশ। বিজিবির মামলায় একজন কারাগারে আছেন।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, প্রতিপক্ষকে ফাঁসানো, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা চাঁদা আদায়ের জন্য এসব বোমাসদৃশ বস্তু রাখা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে পুলিশকে জানানোর আহবান জানিয়েছেন তিনি।
বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের প্রথম ঘটনাটি ৪ এপ্রিলের। সেদিন গাংনীর রাধাগোবিন্দপুর ধলা বিওপির এলাকার মাঠে অভিযান চালিয়ে মুনতাজ আলীকে নামের একজনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ২টি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মামলা করে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
৩ মে উপজেলার চর গোয়াল গ্রামের মাথাভাঙ্গা নদীর তীর থেকে একটি বোমা সদৃশ বস্তু ও হত্যার হুমকি সম্বলিত চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ।
৬ মে উপজেলার সীমান্তবর্তী তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের হাজীপাড়ার সানোয়ার হোসেন পলাশের বাড়ির ফটকের সামনে থেকে বোমাসদৃশ বস্তু ও চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ। সানোয়ার হোসেন পলাশের চাচাতো ভাই শামীম হোসেন জানান, পুলিশ বোমা ও চিরকুট উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। কে বা কারা এ কাজ করেছে তা নিশ্চিত না হওয়ায় তারা মামলা করেননি।
১৭ মে উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নের হাড়াভাঙ্গা হাজীপাড়া এলাকার বজলু রহমানের বাড়ির ফটকের সামনে বোমাসদৃশ বস্তু, চিরকুট ও কাফনের কাপড় রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। চিরকুটে লেখা, ‘ইউসুফ পাঁচ লাখ টাকা দিবি। না দিলে তোকে ও তোর ছেলেকে হত্যা করা হবে।’ বজলু রহমান বলেন, এ ঘটনায় তিনি মামলা করেননি।
১৮ মে উপজেলার সাহারবাটি ইউনিয়নের জোড়পুকুরিয়া গ্রামের বাবলু মিয়ার বাড়ির প্রবেশপথে দুটি বোমাসদৃশ বস্তু ও হুমকিসংবলিত দুটি চিরকুট পাওয়া যায়। চিরকুটে লেখা ছিল, ‘১ ঘণ্টা সময় পেলে তোদের বিএনপিদের কি হাল করব, লাভলুর মতো তোদের জবাই করব।’ আরেকটি চিরকুটে বলা হয়, ‘শেখ হাসিনা আসবে ছয় মাস সময়, ...বিএনপিদের কি হাল করব, পোলারা।’ চিরকুটের মধ্যে কিছু মানুষের নাম লেখা ছিল। বাবলু মিয়া বলেন, ‘আগেও কয়েকবার চিরকুট লিখে হুমকি দিয়েছে আমাকে। আমি এবং আমার পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি।’
২০ মে উপজেলার চরগোয়াল গ্রামের আতিকুর রহমান হানিফের বাড়ির সামনে থেকে বোমাসদৃশ বস্তু ও চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ। চাঁদার দাবিতে এগুলো রাখা হয় বলে দাবি করেন হানিফ। তবে ঘটনার পেছনে কারা এটা নিশ্চিত না হওয়ায় তিনি মামলা করেননি বলে জানান।
গত ৩০ জুন উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের কসবা গ্রামের মোল্লাপাড়ার রজব আলীর বাড়িতে বোমাসদৃশ বস্তু ও চিরকুট রেখে হুমকি দেয় দুর্বৃত্তরা। রজব আলী বলেন, চিরকুটে লেখা ছিল, ‘পানি নামতে না দিলে বোমা মেরে মেরে ফেলব। দল পাওয়ারে।’ পুলিশ বোমাসদৃশ বস্তু ও চিরকুট উদ্ধার করে নিয়ে গেছে।
গাংনী থানার ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো প্রথমে থানায় নিয়ে আসা হয়। সেগুলো জিডি মূলে কোর্টের আদেশক্রমে নিষ্ক্রিয় করা হয়। তবে বোমাসদৃশ বস্তুগুলো প্রায় ৯০ ভাগই দেখতে ককটেলের মতো। এগুলো সেই অর্থে তাজা বোমা নয়।
মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জামিনুর রহমান খান বলেন, গাংনীতে কিছু বোমাসদৃশ অকার্যকর ককটেল উদ্ধারের ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাতের আধারে ভয়ভীতি দেখানো, আধিপত্য বিস্তার বা পরস্পরকে ফাঁসাতে এসব রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।
- বিষয় :
- গ্রেপ্তার