ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

ত্রাতা সেই মেসি

ত্রাতা সেই মেসি
×

ছবি- এএফপি

সেকান্দার আলী

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৪৪

লিওনেল মেসির চোখে সুখের শ্রাবণ। তার ছোঁয়াছুয়িতে কাঁদলেন অনেকে। মাঠের সতীর্থরা জড়াজড়ি করে, আর মাস্টার লিওনেল স্কালোনি নীরবে। পোড়া চোখ আনন্দেও কাঁদে। একেই বলে সুখের শ্রাবণ। বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় কাঁপাকাঁপি। ঢেউয়ের মতো আক্রমণ করেও গোল করতে না পারা। অতঃপর গিরিখাদের কিনারা থেকে বেঁচে ফেরা থ্রিলারকেও হার মানায়। ৭৮ মিনিট লড়াই করেও পিছিয়ে ছিলেন মেসিরা। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ নাটুকে মোড় নেয় পরের মিনিট থেকে। ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি আর এনজো ফার্নান্দেজের গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। এই রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর আবেগাপ্লুত কোচ অল্প কয়েকটি শব্দ উচ্চারণ করেন, ‘আমি মাথা তুলতে পারছি না, দুঃখিত, আমি খুব আবেগাপ্লুত। কী অসাধারণ একদল খেলোয়াড়!’

এই বিশ্বকাপ পরিণত মেসিকে দেখছে। নিজেকে ভেঙে গড়ছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। একের পর এক রেকর্ড তাঁর পায়ে লুটাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে একটি গোল করে মালিক হলেন পাঁচটি রেকর্ডের। এই বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে ৮ গোল হলো তাঁর। ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে মালিক হলেন ২১ গোলের। প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে টানা ৯ ম্যাচে গোল করার রেকর্ডটিও পেলেন নতুন করে। নকআউট পর্বে টানা ছয় ম্যাচে গোলের অধিকার তাঁর একার। বিশ্বকাপে ভিন্ন ১৫টি দেশের জাতীয় দলের বিপক্ষে গোল করেছেন তিনি। বিশ্বকাপে ৯টি অ্যাসিস্ট করান। এ ছাড়া বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচে ৮ গোল করা একমাত্র খেলোয়াড় মেসি। এক বিশ্বকাপে ৮ গোল করা দ্বিতীয় আর্জেন্টাইন ফুটবলার। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরে ৮ গোল করার কীর্তি গড়েছিলেন গির্য়েমো স্তাবিল।

এই রেকর্ড গড়া জয়ের ম্যাচ শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা দেশটির সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা অবিশ্বাস্যভাবে স্বস্তি বোধ করছি। আমরা এই ছেলেদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা আমাদের অনুপ্রাণিত করে। যারা কখনও ক্লান্ত হয় না। যারা সবসময় আরও ভালো করার জন্য চেষ্টা করে। আর যারা এই কাজগুলো করতে সক্ষম।’ ফুটবলার চেয়েও ডাগ আউটের কোচিং স্টাফ টেনশনে ছিলেন বেশি। এই কোচের কথায় তা পরিষ্কার, ‘আমরা বিধ্বস্ত ছিলাম। কিন্তু আমরা নিজেদের মধ্যে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আমাদের যদি চলে যেতে হয়, আমরা মাথা উঁচু করেই যাব। এটি একটি অবিশ্বাস্য দলের আরও একটি প্রমাণ।’

শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় মিসর হারলেও হৃদয় জিতেছে। মাথা উঁচু করে দেশে ফিরতে পারছে মোহামেদ সালাহরা। কারণ তারা ২-০ গোলে লিড পেয়েছিল প্রথমে। শেষের দিকের তীব্র লড়াইয়ে পেরে না ওঠায় হেরে গেছে। দেশটির স্ট্রাইকার মোস্তফা জিকো ম্যাচ শেষে লাইভ টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারে রেফারিকে ‘জালেম’ আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘রেফারি আমাদের সঙ্গে চরম অন্যায় করেছেন... তিনি আজ একটি পুরো জাতির দীর্ঘদিনের স্বপ্ন আর পরিশ্রমকে এক ফুৎকারে ধূলিসাৎ করে দিলেন। এই বিশ্বকাপটা আর্জেন্টিনাকে দেওয়ার জন্যই সবকিছু আগে থেকে ঠিক করা।’ জিকো কি কোটি কোটি মিসর ভক্তের মনের কথাই বললেন?  

আরও পড়ুন

×