বিশ্বকাপে লাল কার্ডের ছড়াছড়ি, কাঠগড়ায় ভিএআর
স্পেনের বিপক্ষে উরুগুয়ের মিডফিল্ডার অগাস্টিন ক্যানোবিওকে লাল কার্ড দেখাচ্ছেন রেফারি ইসমাইল ইলফাত
আহসান হাবিব সম্রাট
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ১০:০৬
ফুটবল ম্যাচে খেলোয়াড়দের কাছে আতঙ্কের নাম লাল কার্ড। অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ বা প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে বিপজ্জনকভাবে ট্যাকল করলে রেফারি সরাসরি কাউকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন। বিশ্বকাপের প্রতি আসরেই লাল কার্ডের প্রয়োগ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। নির্দিষ্ট দলের ভক্ত-সমর্থকদের পাশাপাশি ইতিহাসের কাঠগড়ায় ওঠেন রেফারিরা। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৩টি লাল কার্ড দেখেছেন ফুটবলাররা। এ সংখ্যা সম্মিলিতভাবে কাতার ও রাশিয়া বিশ্বকাপের চেয়েও বেশি। টুর্নামেন্টে লাল কার্ডের ছড়াছড়িতে অনেকেই আঙুল তুলছেন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) দিকে। অনেক ম্যাচেই প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারে ভিএআরকে কাঠগড়ায় তুলছেন ফুটবল অনুরাগীরা।
এবারের টুর্নামেন্টে অন্তত তিনটি লাল কার্ডের ব্যবহারে দেখা গেছে রেফারি ভিএআরের হস্তক্ষেপে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিন ক্ষেত্রেই রেফারি প্রথমে হলুদ কার্ড ব্যবহার করেন। পরে ভিএআর ফুটেজ দেখে সিদ্ধান্ত বদলে লাল কার্ড দিয়েছেন। গত ১৮ জুন কানাডার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে দুটি লাল কার্ড দেখেন কাতারের খেলোয়াড়রা। ম্যাচের ৫২ মিনিটে কানাডা মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনের কাছ থেকে বল কাড়তে গিয়ে ট্যাকল করেন কাতারের আসিম মাদিবো। মারাত্মক এই ফাউলে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখেন মাদিবো। পরে ভিএআরের হস্তক্ষেপে তাঁকে লাল কার্ড দেখানো হয়। ৯ জনের দলে পরিণত হওয়া কাতারের বিপক্ষে ৬-০ গোলের বড় জয় তুলে নেয় কানাডা।
একই ঘটনা ঘটে ২৬ জুন ইরাক ও সেনেগালের মধ্যকার গ্রুপ পর্বের অন্য ম্যাচেও। ম্যাচের ১৩ মিনিটে ইরাকের রেবিন সুলাকা ফাউলের মাধ্যমে সেনেগালের সাদিও মানেকে নিশ্চিত গোল বঞ্চিত করে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখলেও পরে ভিএআরের হস্তক্ষেপে লাল কার্ড পান। ১০ জনে পরিণত হওয়া ইরাককে ৫-০ গোলে হারায় সেনেগাল।
এ ছাড়া এবারের বিশ্বকাপে ফিফার নতুন নিয়ম প্রবর্তনের কারণেও লাল কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে। যেমন– ১৯ জুন তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গে জার্সিতে মুখ ঢেকে কথা বলে লাল কার্ড দেখেন প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরন। ৩০ জুন টুর্নামেন্টের শেষ ষোলোতে ওঠার ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে একই ঘটনা ঘটিয়ে বহিষ্কার হন ইকুয়েডরের পিয়েরো হিনকাপি।
বিশ্বকাপের প্রথম আসর থেকেই লাল কার্ড প্রয়োগের ঘটনা থাকলেও সেটি ছিল একেবারেই সীমিত। প্রথম ছয়টি আসরে শুধু একবারই এই সংখ্যা সর্বোচ্চ পাঁচে পৌঁছে। আবার দুটি বিশ্বকাপে (১৯৫০ ও ১৯৭০ আসর) একবারও লাল কার্ড ব্যবহার হয়নি। তখন শৈল্পিক ফুটবলেই জোর দিতেন খেলোয়াড়রা। গত শতকের নব্বই দশক থেকে বিশ্বকাপে লাল কার্ডের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আর ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে রেকর্ড ২৮টি লাল কার্ড দেখেন ফুটবলাররা। এর পরের প্রতিটি টুর্নামেন্টেই লাল কার্ডের সংখ্যা কমেছে। ২০১৮ রাশিয়া ও ২০২২ কাতার দুই আসরে মাত্র চারবার এ কার্ড ব্যবহার করেছেন রেফারি।
- বিষয় :
- লাল কার্ড
- ভিএআর
- রেফারি
- ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬