খুলনা চেম্বারের নির্বাচন
প্রার্থীদের কোটি টাকা জলে, ভোট দিতে পারবেন না নতুন সদস্যরা
নতুন সদস্য তৈরিতে জনপ্রতি খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা
হাসান হিমালয়, খুলনা
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪৩ | আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ০৯:০২
| প্রিন্ট সংস্করণ
নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে কোটি টাকার বেশি খরচ করে নতুন সদস্য তৈরি করেছিলেন খুলনা চেম্বার অব কমার্সের প্রার্থীরা। তবে আইনি বাধায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তারা বাদ পড়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার নতুন ৬৯৭ জন সদস্যকে বাদ দিয়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচনী বোর্ড।
খুলনা চেম্বার অব কমার্সে সর্বশেষ ভোট হয়েছিল ২০১৪ সালে। পরের বছরগুলোতে ব্যবসায়ীরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর চাচাতো ভাইদের নির্দেশে ভোট ছাড়াই পরিচালনা পর্ষদ গঠন হতো। টানা ১৫ বছর চেম্বারের সভাপতি ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সিনিয়র সহসভাপতি কাজী আমিনুল হক। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি চেম্বারে প্রশাসক নিয়োগ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এরপর ভোটার তৈরি শুরু করেন প্রার্থীরা। ঢাকায় বসবাস করা চেম্বারের সাবেক পরিচালক কাজী হাফিজুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীরা প্রায় ৫০০ নতুন সদস্য তৈরি করেন। অন্য গ্রুপের পক্ষ থেকে আরও প্রায় ১৫০ জনকে সদস্য তৈরি করা হয়। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ব্যক্তিগত অর্থে সদস্য হন আরও ৪৭ জন। এর বাইরে পুরাতন এক হাজার ৭০৫ জন সদস্যের সদস্যপদ নবায়ন করা হয়।
খুলনা চেম্বার অব কমার্স সূত্রে জানা গেছে, ‘বাণিজ্য সংগঠন বিধি ২০২৫’ অনুযায়ী দেশের সব চেম্বার অব কমার্সে নতুন সদস্য ভর্তি ফি ১৫ হাজার টাকা। সদস্যপদ নবায়ন ফি বার্ষিক পাঁচ হাজার টাকা। এ ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর ও ভ্যাট প্রত্যয়নপত্রের জন্য বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে আরও খরচ করতে হয়।
নতুন ভোটার নিয়ে প্রথম থেকেই বিতর্ক ছিল। গত মার্চে নতুন সদস্যপদ পাওয়া ১২৫টি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ৯০টি প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাননি চেম্বারের কর্মকর্তারা। এ নিয়ে গত ৫ এপ্রিল সমকালে ‘খুলনা চেম্বারের সদস্য তালিকায় ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ছড়াছড়ি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়ে প্রশাসককে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির নির্দেশ দেয়।
সূত্র জানায়, গত ২২ মে তপশিল ঘোষণা করে নির্বাচন বোর্ড। আগামী ২২ আগস্ট ভোটের দিন নির্ধারণ করা হয়। গত ৩০ জুন দুই হাজার ৪০২ জনের প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। ৩ জুলাই নতুন ভোটার হওয়া ৬৯৭ জনের বিষয়ে আপত্তি দেন কয়েকজন সদস্য।
আপত্তির আবেদনে বলা হয়, বাণিজ্য সংগঠন আইন ২০২২ এর ১৮ ধারায় প্রশাসকের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে নতুন সদস্য তৈরির কোনো ক্ষমতা বা দায়িত্ব নেই। গত দেড় বছরে যেসব নতুন সদস্য পদের আবেদন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত।
নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, আপিলে ৬৯৭ জন সদস্যকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন যুক্তিযুক্ত বিবেচিত হয়েছে। তাই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে তারা বাদ পড়েছেন।
সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের কাজী হাফিজুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিষদের আহ্বায়ক কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা সভা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাব।’
অপর প্যানেলের পক্ষে খুলনা বড় বাজার ঐক্য সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা আইন মেনে চলতে চায়। আইনে যদি বাদ দেওয়া হয়, আমাদের আপত্তি নেই।’
- বিষয় :
- খুলনা চেম্বার অব কমার্স
- ভোটার