খোকসায় গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষ শূন্য একটি গ্রাম
খোকসা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২০ | ০৮:৪২ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
কুষ্টিয়ার খোকসায় গভীর রাতে একটি বাজারে অগ্নিকাণ্ডের সময় পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ৯ গ্রামবাসীকে আটক করা হয়েছে। গ্রেফতার আতঙ্কে একটি গ্রাম পুরুষ শুন্য হয়ে পড়েছে।
গ্রামবাসী জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলা বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের বনগ্রাম বাজারের রাব্বি টেইলার্স নামের একটি কাপড়ের দোকানে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের মুদি দোকান পিয়ারুল স্টোর, হাবিব কসমেটিকস ও হাজরা ড্রাগ হাউস নামের ওষুধের দোকানে। এ সময় বাজার সংলগ্ন মসজিদের মাইক থেকে আগুন নেভাতে গ্রামবাসীর সাহায্য চেয়ে মাইকিং করা হয়। জনতা আগুন নেভাতে চেষ্টা করে। মাইকিংয়ের প্রায় ৩০ মিনিট পর খোকসা ফায়ার স্টেশনের দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে হাজির হন। কিছু সময় পর ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের তিন সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সামাজিক দূরত্বের কথা বলে জনতার ওপর চড়াও হয়। এ সময় জনতাও পাল্টা অবস্থান নেয়। পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য নাহিদ হাসান (৩০) ও মেসবাউর রহমান (৩৩) আহত হন। শুক্রবার ভোরে আহত পুলিশ সদস্যদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনার পর শুক্রবার সকালে বনগ্রাম এলাকায় পুলিশ গণগ্রেফতার অভিযান শুরু করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘর মালিক বাদশা, ওয়াজ আলী, পিন্টু, মোয়াজ্জেম, নজরুল, কাফি, বাবু, সাবুসহ ৯ জনকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছে তাদের পরিবার।
আটক বাদশার স্ত্রী আশা অভিযোগ করেন, রাতে তাদের দোকানে আগুন লাগে। তারা ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন। পুলিশ-জনতার সংঘর্ষের বিষয়টি তারা জানেন না। সকাল ১১টার দিকে ভবানীপুর ফাঁড়ির পুলিশ এসে তার স্বামীকে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে গেছে।
ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শহীদ পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে বলে দাবি করেন।
ঘটনাস্থলে থাকা এসআই সুলতান জানান, তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যেতে দেরি করায় জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।