খামেনিকে শেষ বিদায়
নাজাফে লাখো মানুষের চোখের জল আর ক্ষোভ
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ০৪:০৯
হৃদয়বিদারক আবহ, বাতাসে ভাসছে কান্নার রোল, সেই সঙ্গে স্লোগান। শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র শহর ইরাকের নাজাফ যেন এক শোকের সাগর। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে জড়ো হন লাখো মানুষ।
আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহতের পর ছয় দিনব্যাপী এই বিশাল শোকযাত্রার অংশ হিসেবে বুধবার কফিনটি ইরাকে নেওয়া হয়। প্রিয় নেতাকে শেষবার দেখতে আসা মানুষের ভিড় সামাল দিতে ইরাক সরকার এদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করে।
ভোর ৬টা থেকেই নাজাফের সড়কগুলোয় তিল ধারণের জায়গা ছিল না। কফিনবাহী একটি বড় ট্রাক ধীর লয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় চারপাশ থেকে মানুষের আবেগ বাঁধ ভেঙে যায়। হাজারো মানুষের হাতে ছিল প্রয়াত নেতার বড় বড় প্রতিকৃতি; আকাশে উড়ছিল ইরাক ও ইরানের জাতীয় পতাকা। ভিড়ের মধ্য থেকে ক্ষোভ আর শোকের মিশ্রণে ভেসে আসছিল স্লোগান ‘আমেরিকা নিপাত যাক’, ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে খামেনির মরদেহ এসে পৌঁছালে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেখানে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি, শীর্ষ রাজনীতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং খামেনির বড় ছেলে মোস্তফা হোসেনি খামেনি। তবে পুরো আয়োজনে কোথাও দেখা মেলেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির। বাবার সঙ্গে একই হামলায় আহত হওয়া এই নতুন নেতার শারীরিক অবস্থা এখনও রহস্যে ঘেরা।
নাজাফের রাস্তা পেরিয়ে কফিনটি নিয়ে যাওয়া হয় ইসলামের প্রথম শিয়া ইমাম হযরত আলীর (রা.) পবিত্র মাজারে। মক্কা ও মদিনার পর শিয়া সম্প্রদায়ের কাছে নাজাফ সবচেয়ে পবিত্র স্থান। আলজাজিরার সাংবাদিক জ্যাক হিউসন সেখান থেকে জানান, ‘ধর্মীয় উৎসবগুলোয় এই শহর লাখ লাখ মানুষ দেখতে অভ্যস্ত। তবে আজকের এই শোকযাত্রার গুরুত্ব ও বিশালতা যেন সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। এখানে ঠিক কত মানুষ এসেছে, বলা কঠিন। তবে সংখ্যাটা যে কয়েক লাখ, তা নিশ্চিত।’
ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে এই মিছিলে শামিল হওয়া মোহাম্মদ আল-বায়াতি নামে এক ইরাকি নাগরিক বলেন, ‘যিনি সারাজীবন আমেরিকা আর ইসরায়েলের শক্তির সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছেন, তাঁর শেষ যাত্রায় অংশ নেওয়ার এই সুযোগ আমি হাতছাড়া করতে পারি না।’
নাজাফের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কফিনটি নিয়ে যাওয়া হয় ৬০ কিলোমিটার দূরের আরেক পবিত্র শহর কারবালায়– ইমাম হোসেন (রা.) ও হযরত আব্বাসের মাজারে। ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কায়ানি এই ঐতিহাসিক আয়োজনকে দুই দেশের আধ্যাত্মিক বন্ধনের প্রতীক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
ইরাক থেকে আজ বৃহস্পতিবার খামেনির মরদেহ ফিরিয়ে নেওয়া হবে তাঁর জন্মভূমি ইরানের মাশহাদে এবং সেখানেই দাফন করা হবে।