ত্রাণের তালিকায় সরকার দলীয়দের নাম না থাকায় ২ ইউপি সদস্যকে হেনস্থার অভিযোগ
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২০ | ২৩:৩৬ | আপডেট: ০৯ মে ২০২০ | ০০:৪০
পটুয়াখালীর বাউফলে সরকারি ত্রাণের তালিকায় সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের নাম না থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের দুই সদস্যকে হেনস্থার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে কেশবপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য ফোরকান আকনকে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিয়ানুর হাওলাদার রনি, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক সিকদার, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউপি সদস্য সুজনসহ ৪/৫ জনের একটি দল তার বাড়িতে গিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কেশবপুর কলেজের অধ্যক্ষ সালেহ আহমেদ পিকু ত্রাণের বিষয়ে কথা বলবেন বলে ইউনিয়ন পরিষদে যেতে বলেন। তাদের সঙ্গে আকন ইউনিয়ন পরিষদে গেলে তারা তাকে ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন নারী ইউপি সদস্য লিপি বেগমের ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বশার খান, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম ছিলেন। সেখানে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তালিকায় দলীয়ভাবে অর্ধেক নাম দিতে হবে বলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও যুবলীগের সভাপতি তাকে নির্দেশ দেন।
তিনি জানান, দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানালে তালিকা ঠিক হয়নি বলেই তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। তিনি প্রতিবাদ করলে যুবলীগ সভাপতি জহিরুল ইসলাম তাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করে এবং এক পর্যায়ে কান ধরে ওঠবস করায়। এরপরে তাকে জোর করে সঙ্গে থাকা তালিকা রেখে দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেয়।
এ বিষয়ে নারী ইউপি সদস্য লিপি আক্তার বলেন, ঘটনার সময় ঘরের পেছনে ছিলাম। তবে কথা কাটাকাটির শব্দ শুনেছি।
অন্যদিকে, একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইব্রাহিম অভিযোগ করেন, যুবলীগ সভাপতি জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০/১১ টি মোটরসাইকেল তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে স্ত্রী সন্তানদের সামনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং তাদের কথা মোতাবেক তালিকা না করলে খবর আছে বলে হুমকি দিয়ে আসে।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবংঅধ্যক্ষ সালেহ আহমেদ পিকু এবং যুবলীগ সভাপতি জহিরুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে তালিকায় দলের সুপারিশ বিবেচনা করার কথা বলেছি।
ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিয়ানুর হাওলাদার রনি জানান, কথা কাটাকাটি ও ঠেলাঠেলি হয়েছে। তবে কান ধরে ওঠবসের ঘটনা ঘটেনি।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন খান লাভলু জানান, দুই ইউপি সদস্যই তাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে সেটা তাকে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, সরকারি ত্রাণ বা সরকার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো অনিয়ম করলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না ।