ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

করোনা সংকটকালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা উদ্যোগ

করোনা সংকটকালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা উদ্যোগ
×

মীর হাসিব, খুবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ মে ২০২০ | ০১:১৭ | আপডেট: ১১ মে ২০২০ | ০১:৩১

করোনা সংকটকালে সমাজের অসহায় হতদরিদ্র মানুষকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (কুয়া), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (কুটা), হেল্প স্কোয়াড খুলনা, ভলান্টিয়ার এগেইনস্ট কন্টাজিউন (ভিএসি), বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, প্রবাসে অবস্থানরত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সংগঠন, ব্যক্তিপর্যায়ে অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী যার যার সাধ্যমতো গরীবদের সহায়তায় এগিয়ে আসছেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক নাজমুস সাদাত বলেন, প্রায় পাঁচশ পরিবারের কাছে ইতোমধ্যে প্রায় দশ দিনের খাবার দেওয়া হয়েছে। খুলনার বিভিন্ন স্থানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, গ্লাভস, মাস্ক এবং পিপিই বিতরণ করা হয়েছে। কুয়া’র ত্রাণ কার্যক্রম খুলনা ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় টিউশনি করে ও জীবন সংগ্রামের নানা চড়াই-উৎরাই পার করে চলা অসচ্ছল পরিবারের অনেক শিক্ষার্থীর জীবন কঠিন হয়ে পরে। এসকল প্রায় চারশতাধিক শিক্ষার্থীকে মাসে তিন হাজার টাকা প্রদানের লক্ষ্যে অনলাইনে ইতোমধ্যে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পরিচয় গোপণ রেখে সম্পূর্ণ যাচাই-বাছাই শেষে ধাপে ধাপে অতিদ্রুত এই অর্থ শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাসের বর্তমান মহামারী পরিস্থিতিতে দেশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক আবেদনে সাড়া দিয়ে গত ২৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে স্বেচ্ছায় ১৫ লাখ টাকা দান করেছে খুবি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের একদিনের মূল বেতনর সমপরিমাণ অর্থ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মিলিয়ে যৌথ এই অর্থ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ৯ মে তারিখ খুবি স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ) আরো এক লাখ টাকা উক্ত তহবিলে জমা দেয়। এছাড়া ন্যাশনালিস্ট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন নিজ উদ্যোগে ত্রাণ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

কুয়া ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন অনেক শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ভিএসি এবং হেল্প স্কোয়াড খুলনা  বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। ভিএসি'র সিয়াম আদনান বলেন এখন পর্যন্ত আমাদের ফান্ডের পরিমাণ ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৭৬২ টাকা। ফান্ড কালেকশনের কাজে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিভিন্ন দোকানের মালিকরাও এগিয়ে এসেছেন। সকলের মাঝে সমান পরিমাণে নির্দিষ্ট সময় পর পর ত্রাণ সহায়তা প্রদান করাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্যে স্বচ্ছতার সাথে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে থাকা পরিবারগুলোর তালিকা সংগ্রহ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরির পক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

অপর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হেল্প স্কোয়াড খুলনা'র দারুল জেনান জানান, আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি কিন্তু সময় যতো যাচ্ছে অর্থ সংগ্রহ ও জনবল জোগাড়ে করা তত কঠিন হয়ে যাচ্ছে। একমাত্র সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই সংকট মোকাবিলা করতে পারবো।

বিতর্ক বিষয়ক সংগঠন নৈয়ায়িক অনলাইন বিতর্ক কর্মশালা ও খুবি আর্ট সোসাইটি অনলাইন চিত্রকর্ম প্রদর্শনী হতে প্রাপ্ত অর্থ ত্রাণসহায়তা কাজে প্রদান করেছে। অনেকে আবার নিজ এলাকার কোন সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে কিংবা ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। 

খুবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান বলনে, দেশের এই সংকটে সকলের একসাথে এগিয়ে আশা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের এই মুহূর্তে দুশ্চিন্তা মুক্ত থেকে মনোবল শক্ত রাখতে হবে এবং পরস্পরের খোঁজখবর রাখতে হবে।

অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থীর সমস্যা মোকাবেলা করা না গেলে স্ব স্ব ডিসিপ্লিনের শরণাপন্ন হতে হবে। ডিসিপ্লিনের চেষ্টাতেও সমস্যার সমাধান না হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানাতে হবে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে তাদের রেজিস্ট্রেশন বা অন্যান্য খরচের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন

×