ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত

স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়ায় লিজার আত্মহত্যা

স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়ায় লিজার আত্মহত্যা
×

লিজা রহমান- সমকালের ফাইল ছবি

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০১৯ | ১০:২৭

স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করতে গিয়েছিলেন কলেজছাত্রী লিজা রহমান (২০)। কিন্তু পুলিশ মামলা না নেওয়ার কারণেই থানা থেকে বেরিয়ে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন তিনি। মৃত্যুর আগে নিজের জবানবন্দিতে লিজা এ কথাই জানিয়ে গেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) আল-মাহমুদ ফয়জুল কবির।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানার বাইরে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেন লিজা। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত করছে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন। চার সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গত ২ অক্টোবর রাজশাহীতে এসে প্রথম দফায় তদন্ত করে। পরে বৃহস্পতিবার তারা আবার রাজশাহী এসে শাহমখদুম থানার দু'জন পুলিশ সদস্য, পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের চারজন, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী চারজন, লিজার কলেজের অধ্যক্ষসহ সংশ্নিষ্ট আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন।  শুক্রবার সকালে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক আল-মাহমুদ ফয়জুল কবির রাজশাহীর একটি রেস্ট হাউসে সাংবাদিকদের জানান, লিজা রহমান বলেছেন, তার মামলা নেওয়ার বিষয়ে পুলিশ নারাজি ছিল। সে জন্যই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন।

পুলিশের তদন্ত অবশ্য সে কথা বলছে না। লিজার গায়ে আগুন দেওয়ার পর রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সালমা বেগমকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তাদের দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে পুলিশের কোনো গাফিলতি নেই।

তবে মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক ফয়জুল কবির বলছেন, গরমিল রয়েছে পুলিশের দেওয়া তথ্যে। তিনি আরও জানান, রোববার কমিশনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তখনই পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহমাখদুম থানার ওসি মাসুদ পারভেজ বলেন, লিজার অভিযোগ শোনা হয়েছিল। তার অভিযোগ মামলা আকারে রেকর্ডের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি হঠাৎ করেই থানা থেকে বের হয়ে গায়ে আগুন লাগিয়ে দেন। লিজাকে নিয়ে পুলিশের কোনো গাফিলতি নেই বলে দাবি করেন তিনি।

লিজা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার প্রধানপাড়া এলাকার আবদুল লতিফ বিশ্বাসের পালিত মেয়ে। তিনি রাজশাহী মহিলা কলেজের বাণিজ্য দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তার স্বামী সাখাওয়াত হোসেন (২০) চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার খানদুরা গ্রামের খোকন আলীর ছেলে। পরিবারকে না জানিয়েই লিজাকে বিয়ে করেন সাখাওয়াত।

আরও পড়ুন

×