‘রমজান এলে বড় কথা শুনি, বাস্তবে তো কাজ দেখি না’
ঝিনাইদহে বাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনছেন ক্রেতা। ছবি: সমকাল
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৪ | ০৭:৩০ | আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৪ | ১০:১৮
ঢাকার বস্ত্র কারখানায় কর্মরত স্বামী। দুই সন্তান নিয়ে ঝিনাইদহ শহরের চাকলাপাড়ায় থাকেন মৌসুমী আক্তার সাবিনা। অল্প বেতন থেকেই সংসার খরচ পাঠান স্বামী। এ দিয়ে সব সামলাতে হিমশিম খেতে হয় সাবিনাকে। এরই মধ্যে রমজান আসতে না আসতেই বেড়ে গেছে প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। সাবিনা ক্ষোভ প্রকাশ করে মঙ্গলবার বলেন, ‘নিত্যপণ্যের দাম এত বাড়লে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কষ্টের সীমা থাকে না।’
এ গৃহিণীর কথার সত্যতা পাওয়া যায় শহরের নতুন হাটখোলা বাজার, ট্ব-বাজার, ওয়াপদা বাজারসহ কয়েকটি বাজারে। মঙ্গল ও বুধবার– প্রথম দুই রোজার দিনে খুচরা পর্যায়ে আলু বিক্রি হয় কেজিপ্রতি ৩৫ টাকায়। অথচ ১০ দিন আগেও ৩০ টাকা ছিল দর। বেগুন ৪০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫০-৬০ টাকা। ২০ টাকার ধনেপাতার দর ৭০-১০০ টাকায় উঠেছে। এসব বাজারে শসা বিক্রি হতে দেখা যায় ৮০ টাকায়। সজিনার দর কেজিপ্রতি ৫৫০-৫৬০ টাকা। কোনো বাজারেই কাগজি লেবু পাওয়া যায়নি। চায়না লেবুর হালিপ্রতি দাম ৪০-৬০ টাকা। তবে দাম কমেছে পেঁয়াজের। ১০০ টাকা থেকে দর নেমেছে ৭০ টাকায়।
দু’দিন ঘুরে জানা গেছে, প্রধান বাজারগুলোতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কোনো অভিযান পরিচালনা করেননি। এমন অবস্থায় চরম ক্ষুব্ধ সাধারণ ক্রেতারা। নতুন হাটখোলা বাজারে বুধবার এসেছিলেন লিয়াকত আলী। বাজারদর নিয়ন্ত্রণ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘রমজান এলেই বাজার নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বে থাকা সরকারি দপ্তরের (কর্মকর্তাদের) বড় বড় কথা শুনি– বাজার নিয়ন্ত্রণ হবে, পণ্যের দাম বাড়বে না। বাস্তবে তো কাজ দেখি না।’ এসব কর্মকর্তার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যদি পারেন, কাজ করেন। আর না পারলে এসব মন ভোলানো কথা বলে সাধারণ মানুষকে ভুগোল বোঝাবেন না।’
ওই বাজারের তরকারি বিক্রেতা দীপংকর চক্রবর্তী পণ্যের দাম ‘কিছুটা বেড়েছে’ বলে স্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমরা পাইকারদের কাছ থেকে যে দামে কিনি, তার থেকে কয়েক টাকা লাভে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করি। তবে কোল্ডস্টোরেজে আলু কম থাকায় দামও একটু বেশি।’
মো. পলাশ নামের আরেক বিক্রেতা বলেন, এবার কাঁচামালের দাম মোটামুটি স্বাভাবিক। কয়েকটি পণ্যের দাম দু-এক টাকা বাড়লেও কয়েকদিন পর ঠিক হয়ে যাবে। সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কয়েকজন পাইকারের সঙ্গে কথা কথা বলে জানা যায়, তারা প্রতিকেজি শসা ৬০ টাকায় বিক্রি করছেন। আর আলুর দাম রাখছেন ২৮-৩০ টাকা। এ ছাড়া বেগুন ৮-২৫ টাকা, ধনেপাতা ২০-৫০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ টাকা, লেবু হালিপ্রতি ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নতুন হাটখোলা বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী বিপ্লব বিশ্বাস বলেন, রংপুর এলাকা থেকেই ঝিনাইদহে আলু বেশি আসে। সেখানকার হিমাগারগুলো ঠিকমতো আলু দিচ্ছে না। ১০ দিনে সেখানেই কেজিতে ৪ টাকা দাম বেড়েছে। চাইলে তারা আলুর সংকট দেখান। কিন্তু টাকা বেশি দিলে সবই পাওয়া যায়।
বাজার তদারকির বিষয়ে জানতে চাইলে ‘একজন অফিসারের সব জায়গায় দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়’ বলে মন্তব্য করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহের দায়িত্বরত সহকারী পরিচালক নিশাত মেহের। তিনি বলেন, রমজানের আগের দিন মূল্য তালিকা টাঙিয়ে ন্যায্য দামে পণ্য বিক্রি করতে ব্যবসায়ীদের বলেছেন। ভোক্তা অধিকার দিবস নিয়ে তাদের ব্যস্ততা চলছে। ওই দিবসের অনুষ্ঠান শেষে আবার অভিযানে নামবেন।
‘মিটিং থাকায় অভিযানে নামতে পারিনি’– এমন স্বীকারোক্তি দিয়ে জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, দ্রুতই জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযানে যাবেন।
- বিষয় :
- ঝিনাইদহ
- নিত্যপণ্যের দাম
- জীবন-সংগ্রাম
- রমজান
