আন্দোলনের মুখে র্যাম্প নির্মাণ স্থগিত করল সিডিএ
ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৪ | ০০:৪৮ | আপডেট: ০৩ এপ্রিল ২০২৪ | ১৫:৩৯
নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ ও আন্দোলনের মুখে শতবর্ষী গাছ কেটে র্যাম্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। র্যাম্পের নকশা সংশোধনেরও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সিডিএ ভবনে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানান সিডিএ চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ।
সভায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা টাইগারপাস ও সিআরবি এলাকার সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন করে স্থাপনা করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। নাগরিক সমাজের চেয়ারম্যান ও সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. অনুপম সেন বলেন, ‘টাইগারপাসের দ্বিতল সড়ক এক অপূর্ব সুন্দর জায়গা। সেখানে মনে হয় না র্যাম্পের প্রয়োজন আছে। র্যাম্প হলে একটি কুৎসিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আরবান প্ল্যানিংয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি রাখতে হবে।’ র্যাম্প নির্মাণকাজ বন্ধ করে নাগরিক সমাজের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও আইনজীবী নেতা ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল বলেন, ‘চট্টগ্রামের মানুষের সেন্টিমেন্টের বাইরে কিছু করবেন না। আমরা বিশেষজ্ঞদের নাম দেব। সবাই মিলে যেটা ঠিক করব, সেভাবেই হবে।’
কবি ও সাংবাদিক কামরুল হাসান বলেন, ‘চট্টগ্রামের জনগণ র্যাম্প চায় না। সাধারণ মানুষ এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করবে না। এখানে টোল দিয়ে উঠতে হবে। এখানে কোনো র্যাম্প করবেন না।’ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের বক্তব্যের জবাবে সিডিএ চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, ‘শতবর্ষী নয়, র্যাম্প করতে ছোট কিছু গাছ কাটা পড়বে। বন বিভাগ মার্কিং করেছে। আমরা করিনি। নকশা দেখলে বুঝতে পারবেন। প্রয়োজনে র্যাম্পের সাইজ আরও ছোট করতে বলেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যমান নকশা সংশোধন করা হবে। সংশোধিত নকশা নিয়ে ঈদের পর আবার বসব। তখন সবার মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘র্যাম্প নির্মাণে শুধু একটি শতবর্ষী গাছের ডাল কাটা পড়বে। নকশা আরেকটু সংশোধন করব। ঈদের পরে দেখানো হবে। র্যাম্প দরকার না হলে করব না।’
সভায় আরও ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহফুজুর রহমান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, অধ্যাপক শফিক হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি চৌধুরী ফরিদ ও বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব মহসিন কাজী।
এদিকে চট্টগ্রাম নগরের টাইগারপাসের শতবর্ষী গাছ রক্ষায় এবং দ্বিতল সড়ক অক্ষত রাখার দাবিতে কর্মসূচি পালন করেছে সম্মিলিত পরিবেশ আন্দোলন। গতকাল টাইগারপাসে অবস্থান নিয়ে একটি গাছে লাল কাপড় টানিয়ে দেন তারা। এ ছাড়া সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আলা উদ্দিন। তিনি গাছ না কাটার দাবিতে শতবর্ষী গাছে প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে দেন।
এদিকে প্রতিবাদ আন্দোলনের মুখে গতকাল দুপুরে র্যাম্পের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন সিডিএর বোর্ড সদস্য ও প্রকল্প পরিচালক। এ সময় তিনি জানান, নাগরিক সমাজের আপত্তির বিষয়টি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।
সিডিএর বোর্ড সদস্য ও নগর পরিকল্পনাবিদ আশিক ইমরান বলেন, ‘র্যাম্পের প্রস্থ কমিয়ে সমাধান করা হলেও ৪৬টি গাছ থাকবে না। অন্যদিকে র্যাম্প না হলে পলোগ্রাউন্ড টাইগারপাসের কানেকটিভিটি হচ্ছে না। বিকল্প কোনো পথ বের করা যায় কিনা, তা খতিয়ে দেখতে সিডিএকে অনুরোধ করব।’
- বিষয় :
- আন্দোলন
- চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ
