বৈষম্যপূর্ণ সমাজ ও দেশ কারও কাম্য নয়: পরিকল্পনামন্ত্রী
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০১৯ | ১০:৪৭
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, বৈষম্যপূর্ণ সমাজ ও দেশ কারও কাম্য নয়। সবাইকে শান্তির মানব-বাগান গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন ঐক্য ও সমতা। কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়, আত্মসম্মান ও আত্মপরিচয়কে সমুন্নত রেখে মানুষের মিছিলে আসতে হবে। সমাজে যেমন বৈষম্য আছে; ঠিক তেমনি বৈষম্য দূর করার পথও আছে। এই দেশের যা কিছু আছে, তা নিয়েই সবাইকে গর্ব করতে হবে। গবেষণা ও জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে হবে।
শনিবার আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) কুমিরার স্থায়ী ক্যাম্পাসে আয়োজিত ১৩তম ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ এবং গবেষণা ও প্রকাশনা কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
আইআইইউসির উপাচার্য অধ্যাপক কেএম গোলাম মহিউদ্দীনের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী। অতিথির বক্তব্য দেন আইআইইউসির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আজাদী। অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু রেজা মো. নিজামুদ্দীন নদভী। স্বাগত বক্তব্য দেন কনফারেন্সের অর্গানাইজিং কমিটির চেয়ার আইআইইউসির ট্রেজারার অধ্যাপক আবদুল হামিদ চৌধুরী, কো-চেয়ার গবেষণা ও প্রকাশনা কেন্দ্রের পরিচালক ড. মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান খান, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মাসরুরুল মাওলা এবং মেম্বার সেক্রেটারি হিসেবে ড. মো. মাহি উদ্দিন।
মন্ত্রী আরও বলেন, উন্নতির জন্য যে কোনো বেসরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। আইআইইউসির নিজস্ব সবুজ ক্যাম্পাস আমাকে মুগ্ধ করেছে। এখানে এসে মনে হচ্ছে, যেন নিজের ঘরে এসেছি। তিনি বলেন, সময় এসেছে ঘুরে দাঁড়ানোর। তাই তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে, সময়ের মূল্য দিতে হবে, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, এখন ঢিলেমির সময় নেই।
মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, 'বৈশ্বিকভাবে পলিসির পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। অর্থায়ন এখন একটি সৃজনশীল প্রক্রিয়া এবং একাডেমিক বিষয়। এই কনফারেন্স জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জ্ঞানের সম্মিলন। আশা করছি, এই কনফারেন্স থেকে ভালো সুপারিশ বেরিয়ে আসবে। একটা সমতার সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই সুপারিশ কাজ করবে বলে ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যাশা করি।'
এবারের কনফারেন্সে ইংল্যান্ড, মালয়েশিয়া, দুবাই, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক রয়েছেন। এ ছাড়া দেশ-বিদেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও পণ্ডিতরা সম্মেলনে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা করবেন। কনফারেন্সে ৬০টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হবে। রোববার প্রবন্ধ উপস্থাপন, আলোচনা সভা ও সমাপনী অনুষ্ঠান হবে।