যমুনায় ইলিশ ধরা চলছে
শাহজাদপুর(সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০১৯ | ০৪:১৩ | আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০১৯ | ০৪:৩৩
ইলিশ প্রজননের মৌসুমে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অব্যাহত রেখেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানার জেলেরা।
প্রতিবারের ন্যায় ইলিশের বংশ বিস্তারে ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময় ইলিশ মাছ আহরণ, মজুদ, পরিবহন ও বিক্রিও নিষিদ্ধ।
শাহজাদপুর থানার ৫টি ইউনিয়ন খুকনী, জালালপুর, কৈজুরি, গালা ও সোনাতনী যমুনা নদী বেষ্টিত। এসব এলাকার চর ও পাড়ের মানুষের অন্যতম পেশা মাছ শিকার। শাহজাদপুরে ১২শ জনের মত জেলে রয়েছে। তারা সারা বছর যমুনায় ইলিশ, ঘাইড়া, আইড়, বাতাসি, চাপিলা সহ নদীর অন্যান্য মাছ ধরতে ঘের জাল ও নিষিদ্ধ ক্যারেন্ট জাল ব্যবহার করে জীবিকা নির্বাহ করে।
যমুনা নদীর জালালপুর, সোনাতনী, কৈজুর ইউনিয়ন সহ আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, নদীতে মাছ ধরতে ক্যারেন্ট জাল ব্যবহার করা হচ্ছে। অপরিচিত নৌকা দেখলেই জাল ও দড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে তারা।
সোনাতনী ইউনিয়নের চাঁনতারা গ্রামের জেলে আব্দুল মালেক, জালালপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুরের জেলে রাসেল মিয়া ও রওশন আলী সেখ জানান, থানা পুলিশের দালালদের তিন থেকে পাঁচ হাজার করে টাকা দিয়ে মাছ ধরছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য জেলেরা জানিয়েছে, সোনাতনীর মোরতুজ আলী মাষ্টার, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আয়েজ উদ্দিন, ব্রাক্ষ্মন গ্রামের জেলে আবু সাইদ, পাঁচিলের আব্দুল লতিফ মেম্বার, গোপিনাথপুরের জাল বিক্রেতা দুলাল ভুঁইয়া ও থানা পুলিশের নিযুক্ত দালালরা জেলেদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করেছে।
অবশ্য জেলেদের কাছ থেকে টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ সহ অন্যান্য অভিযুক্তরা।
অসাধু জেলেদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি টাকা আদায়কারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
এনায়েতপুর থানার ওসি মাহবুবুল আলম ও শাহজাদপুর থানার ওসি তদন্ত শহিদুল ইসলাম পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অসত্য বলে দাবি করে জানান, অন্য বারের চেয়ে এবার কয়েক গুণ বেশি তৎপরতা নিয়ে পুলিশ ইলিশ রক্ষায় কাজ করছে। টাকা নেবার বিষয়টি ভিত্তিহীন।
তারা আরও জানান, নিজেরা কখনো একা-একা অভিযানে যাই না। আমরা মৎস্য কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমেই অভিযান চালাই।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা জানান, আমরা দিন রাত জেলেদের মাছ নিধনের বিরদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। এ পর্যন্ত শাহজাদপুরে ১৮ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা, জরিমানা ও তাদের জাল পোড়ানোর পাশাপাশি জব্দ করা হয়েছে।