ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুড়িগ্রামে ভুল চিকিৎসায় নার্সের মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতালে বিক্ষোভ

কুড়িগ্রামে ভুল চিকিৎসায় নার্সের মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতালে বিক্ষোভ
×

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০১৯ | ০৬:২০

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় হাজেরা আক্তার নামের এক প্রসূতি নার্সের মৃত্যুর অভিযোগে বিভিন্ন ওয়ার্ডে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছেন তার সহকর্মী নার্সরা। রোববার সকালে ওই নার্সের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তারা এই বিক্ষোভ করেন। 

বিক্ষোভকারী নার্সরা জানান, জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত নার্স হাজেরা আক্তার প্রসব বেদনা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) এই হাসপাতালে ভর্তি হন। এ অবস্থায় ওই দিন এই হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. অমিত কুমার বসু সিজার অপারেশন করে কন্যা সন্তান প্রসব করান। কিন্তু সিজার অপারেশনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এই রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় পরদিন শুক্রবার হাজেরা আক্তারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানেই রোববার সকালে তার মৃত্যু ঘটে। 

এ খবর কুড়িগ্রাম হাসপাতালে পৌঁছলে তার সহকর্মী নার্সরা বিক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ ডা. অমিত কুমার বসুর ভুল চিকিৎসার কারণে হাজেরা বেগমের মৃত্যু হয়েছে। এজন্য বিক্ষুদ্ধ নার্সরা ওই চিকিৎসকের অপসারণসহ ৭ দফা দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করেছেন বলে জানিয়েছেন। 

জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহিনুর রহমান সরদার জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে প্রসূতি নার্স হাজেরা আক্তার ডিআইসি রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসারত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।    

এ বিষয়ে গাইনি বিভাগের জ্যেষ্ঠ কনসালটেন্ট ডা. অমিত কুমার বসুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

এদিকে জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু মো. জাকিরুল ইসলাম জানান, নার্সদের অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

তিনি আরও জানান, হাসপাতালের পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। নার্সরা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। 

উল্লেখ্য, নার্স হাজেরা আক্তার ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চাকরিতে যোগদান করেছিলেন। তার বাড়ি গাইবান্ধা জেলায়। তার সদ্যজাত শিশু কন্যাটি বর্তমানে সুস্থ আছে। 

আরও পড়ুন

×