ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদেশে যাওয়ার টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

বিদেশে যাওয়ার টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ
×

তানজিনা আক্তার (ফাইল ছবি)

বুড়িচং (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০১৯ | ০৭:২২

দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয় তানজিনার। মা হারা তানজিনা খুঁজে পেয়েছিলেন নতুন এক পরিবার। তবে চার মাস না যেতেই লাশ হলেন তানজিনা আক্তার (১৯)। 

কীটনাশক পানে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তবে তানজিনা আক্তারের (১৯) বাবার দাবি, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে মেয়েকে। 

ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের রামপাল গ্রামে। শনিবার রাতে দেবপুর ফাঁড়ি পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। 

নিহতের পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জেলার মোকাম ইউনিয়নের মিথলমা গ্রামের মো. সেলিম মিয়ার মেয়ে তানজিনার পার্শ্ববর্তী ময়নামতি ইউনিয়নের রামপাল, ফরিরজপুর এলাকায় শাহ আলমের ছেলে মো. শরীফের সঙ্গে বিয়ে হয়। 

বিয়ের আগে শরীফ দোকনদারি করলেও বিয়ের এক মাস পর জানান, তিনি বিদেশ যাবেন। বিদেশে যাওয়ার টাকার জন্য তানজিনাকে চাপ দেন। এ নিয়ে তানজিনার স্বামী তার উপর নির্যাতন চালায়। গত ২২ অক্টোবর তানজিনার স্বামী টাকার জন্য তানজিনাকে বাবার বাড়িতে পাঠান। 

চারদিন বাবার বাড়িতে থেকে শনিবার সকালে তানজিনা টাকা ছাড়া স্বামীর বাড়িতে ফিরে যান। এরপর তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন তাকে মারধর করেন। 

স্বামীর পরিবারের লোকজন জানান, তানজিনা বাবার বাড়ি থেকে এসে কীটনাশক পান করেন। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তানজিনাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। 

পরিবারের সদস্যরা তানজিনাকে ঢাকা না নিয়ে দাউদকান্দি উপজেলার রায়পুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার হাবিব হোমিও হল নামক একটি হোমিওপ্যাথিক ক্লিনিকে নিয়ে যায়। ক্লিনিকের ডাক্তার মো. রেজাউল করিম তানজিনাকে বিভিন্ন ওষুধ দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। বিকেলে তানজিনাকে নিয়ে বাড়িতে আসেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তানজিনার মৃত্যু হয়। 

খবর পেয়ে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল খায়ের ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তানজিনার বাবা সেলিম মিয়া বলেন, আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই। 

আরও পড়ুন

×