জামাই-শাশুড়ির বিয়ে: ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০১৯ | ০৮:৩৪ | আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০১৯ | ১০:০৯
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে জামাই-শাশুড়ির বিয়ের ঘটনায় শাশুড়ি মাজেদা বেগম বাদি হয়ে গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাদের তালুকদারসহ ১১ জনকে আসামি করে টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রোববার মামলা দায়ের করেছেন। গোপালপুর আমলি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শামছুল আলম মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ১৯ নভেম্বর গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, কাজী, স্বামী, মেয়ের জামাই, ছেলেসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা বিররণে জানা গেছে, গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের কড়িআটা গ্রামের নুরুল ইসলামের স্ত্রী মাজেদা বেগম ও তার মেয়ের জামাই মোনছেরের সঙ্গে পরকিয়ার অভিযোগ এনে মারধর করে জোরপূর্বক স্বামীর সঙ্গে তালাক দিয়ে দেয়। পরে মেয়ের জামাইয়ের সঙ্গে কাজী ডেকে মাজেদাকে ইচ্ছের বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া হয়। এতে হাদিরা ইউপি চেয়ারম্যান কাদের তালুদকার ও ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম সেই সালিশি বৈঠকে জোর পূর্বক বিয়ের নির্দেশ দেন। এ কারণে তিনি ক্ষুব্দ হয়ে এই মামালা করেন।
বাদীর আইনজীবী হাবিবুর রহমান জানান, রোববার আদালতে বাদী মাজেদা বেগম হাজির হয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলায় দায়ের পর আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে গোপালপুর থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
টাঙ্গাইল আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এস আকবর খান বলেন, চেয়ারম্যান, মেম্বার, কাজী, স্বামী, মেয়ের জামাই, ছেলেসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। আদালত আগামী ১৯ নভেম্বর গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের তালুকদার তখন জানান, শাশুড়ির পরকিয়ার খবরে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বাড়ি ঘেরাও করে মারধর শুরু করেন। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরিবারের সবার সঙ্গে কথা বলে তিনি বিয়ের সম্মতি দেন।
এ ব্যপারে গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শুনেছি এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আদালতের কপি হাতে পেলেই তদন্ত শুরু করব।