ধর্ষকদের তাড়িয়ে দিয়ে ধর্ষণ করলেন ছাত্রলীগ নেতা
ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০১৯ | ১২:৪৩ | আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০১৯ | ০৬:২৯
চরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়াঘাট থেকে স্পিডবোটে আড়াই বছরের শিশুসন্তানসহ মনপুরার দক্ষিণ সাকুচিয়ার শ্বশুরবাড়িতে রওনা হন এক গৃহবধূ। পথে চার যাত্রী স্পিডবোট চালককে মেঘনার দুর্গম চরপিয়ালে নিয়ে যেতে বলে। সেখানে গিয়ে চরে নামিয়ে ওই গৃহবধূকে গণধর্ষণ করে তারা। স্পিডবোটের চালক মালিককে খবর দেন। খবর পেয়েই স্পিডবোটের মালিক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই চারজনকে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেন। এরপর নিজেও ধর্ষণ করেন ওই নারীকে।
শনিবার দুপুরে ভোলার মনপুরা উপজেলার চরপিয়ালে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও একজনের বিরুদ্ধে সহায়তা করার অভিযোগে ওই রাতেই মনপুরা থানায় মামলা করেছেন ধর্ষিতা। রোববার ওই গৃহবধূকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মামলার আসামিরা হলেন- উপজেলার সাকুচিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং স্পিডবোটের মালিক নজরুল ইসলাম, মো. বেলাল পাটোয়ারী, মো. রাশেদ পালোয়ান, মো. শাহীন খান, মো. কিরণ ও স্পিডবোটের চালক মো. রিয়াজ। তারা সবাই পলাতক।
পুলিশ ও নির্যাতিতা নারী জানিয়েছে, শনিবার দুপুরে বেতুয়াঘাট থেকে স্পিডবোটে শিশুসন্তানসহ মনপুরার দক্ষিণ সাকুচিয়ার শ্বশুরবাড়িতে রওনা হন এক গৃহবধূ। পথে চার যাত্রী রাশেদ, শাহীন, কিরণ ও বেলাল স্পিডবোট চালককে চরপিয়ালে নিয়ে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে চরে নামিয়ে ওই গৃহবধূকে গণধর্ষণ করেন তারা। বোটচালক রিয়াজ তাদের সেখানে রেখে মনপুরা এসে ঘটনাটি স্পিডবোটের মালিক ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলামকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ধর্ষকদের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা আদায় করেন তিনি। পরে ওই নারীকে তিনিও ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণ দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করে রাখেন। এরপর চার ধর্ষকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকা থেকে ওই নারীকে এক হাজার টাকা দেন তিনি। একই সঙ্গে এ ঘটনা কাউকে বললে ধর্ষণের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
ঘটনা দেখে মহিষ বাথানিরা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলিউল্লাহ কাজলকে জানালে তিনি পুলিশের সহায়তায় শিশুসহ ওই নারীকে উদ্ধার করে মধ্যরাতে থানায় নিয়ে আসেন। পরে ওই গৃহবধূ ছাত্রলীগ নেতা নজরুল, রাশেদ, শাহীন, কিরণ, বেলাল ও বোটচালক রিয়াজের বিরুদ্ধে মামলা করেন। রিয়াজের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। চেয়ারম্যান অলিউল্লাহ কাজল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নজরুলসহ সব আসামি পলাতক। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টা করা হলেও কাউকেই পাওয়া যায়নি।
মনপুরা থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন জানান, মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ওই গৃহবধূকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। স্পিডবোটটি জব্দ করা হয়েছে।