ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন সাঁওতালরা

ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন সাঁওতালরা
×

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২০ | ০৬:৫৬ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

ঘুরে দাাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন পার্বতীপুরের সাঁওতাল পল্লীর ৪২টি পরিবার। আবারো বাসস্থান তৈরির কাজ শুরু করেছেন তারা। জরুরিভাবে উপজেলা প্রশাসনের পাওয়া টিন ও নগত অর্থ পেয়ে তারা নেমে পড়েছেন ঘর নির্মাণে। গত রোববার রাতে ১০ মিনিটের ঝড়ে সাঁওতাল পল্লীর পরিবারগুলো হারিয়ে ছিল মাথা গোজার ঠাঁই।

স্থানীয়রা জানান, ঈদের আগে রোববার রাতে পার্বতীপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের প্রচণ্ড ঝড়ে হাবড়া, হামিদপুর ও হরিরামপুর ইউনিয়নের প্রায় ৭ হাজার বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গাছ পালা ভেঙে পড়ে। বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় তিন দিন বিদ্যুৎ বিহীন থাকে পার্বতীপুর উপজেলা। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাবড়া ইউনিয়নের আদিবাসী পল্লী মাহালী পাড়ার ৪২টি পরিবার। ঝড়ে তাদের প্রতিটি বাড়ি লন্ডভন্ড হয়ে যায়। মারা যায় অনেক গবাদী পশু। আহত হয় কমপক্ষে ১০ জন মানুষ। 

মাহালী পাড়ার আদিবাসী নারী লুইস মূর্মু বলেন, প্রথমেই ঝড়টি তাদের গ্রামে আঘাত হানে। তার গ্রামের মানুষ কাঠের চকির নীচে লুকিয়ে জীবন রক্ষা করেন। 

একই গ্রামের দানিয়েল মুর্মু বলেন, ঝড়ের কারণে তার গ্রামের ২টি বাড়ি ছাড়া সব বাড়ি ভেঙে পড়ে। গ্রামের সবাই গরীব হওয়ায় কয়েক দিন খোলা আকাশের নীচে অবস্থান করছিল। উপজেলা প্রশাসন থেকে জরুরিভাবে টিন ও টাকা দেয়ায় সবাই এখন ঘর তৈরি শুরু করেছে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম প্রামানিক বলেন, ঈদের দিন সকাল থেকে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম ঈদের দিনেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে শুকনো খাবার ও কম্বল বিতরণ করেছেন। আপাতত সব চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত আদিবাসী সাঁওতালদের ২ বান্ডিল টিন ও ঘর মেরামতের জন্য ৬ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা ত্রাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন, ঝড়ে ৭ হাজারের মতো বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ক্ষতির তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ আসলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কাজ শুরু করেছে।

আরও পড়ুন

×