ফতুল্লায় বন্ধুর ছুরিকাঘাতে বন্ধু খুন
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ মে ২০২০ | ০৭:০২ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক রাকিব ও ফেরদৌস। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে দু'জনের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়। ফতুল্লার মুসলিমনগর এলাকার লোকমান হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তারা। প্রায় এক মাস আগে সাদিয়া নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন ফেরদৌস। এরপর ওই বাড়িতেই স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন তিনি। গত রোববার রাত একটার দিকে ওই বাড়ির বাথরুম থেকে চিৎকার শুনে অন্য ভাড়াটেরা গিয়ে দেখেন ছুরি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন রাকিব। আর বাথরুমের ফ্লোরে পড়ে আছে ফেরদৌসের নিথর দেহ।
এ সময় বাড়ির অন্য ভাড়াটেদের দেখে ছুরি হাতে দৌড়ে পালিয়ে যান রাকিব। এরপর ফতুল্লার পঞ্চবটি এলাকায় একটি পুলিশ ভ্যানের সামনে গিয়ে জ্ঞান হারান তিনি। পুলিশ রাকিবকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। সেখানে পুলিশ জানতে পারে রাকিব তার বন্ধু ফেরদৌসকে খুন করে পালানোর চেষ্টা করছিল।
নিহত ফেরদৌস পটুয়াখালী জেলার শুভডুগী গ্রামের আব্দুল মিয়ার ছেলে। আর রাকিব শরীয়তপুর জেলার পোপনচর গ্রামের সোবহান মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় ফেরদৌসের ভাই বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মামুন বলেন, 'রাকিব নামের এক যুবক গত রোববার রক্তাক্ত অবস্থায় পঞ্চবটি মোড়ে এসে পুলিশের গাড়ির সামনে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ওই সময় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার হাত কেটে রক্ত ঝরছিল তখন। পরে জানতে পারি সে তার এক বন্ধুকে খুন করে পালিয়েছে।'
ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া সুমন জানান, তিনি একজন রেডিমেট কাপড় ব্যবসায়ী। চাঁদ রাতে একটার দিকে তিনি বাসায় ফেরেন। ওই সময় তিনি চিৎকার শুনতে পেয়ে গিয়ে দেখেন রাকিব রক্তমাখা ছুরি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। আর ফেরদৌসের নিথর দেহ নিচে পড়ে আছে। তখন তিনি চিৎকার করলে বাড়ির অন্য ভাড়াটিয়ারা ছুটে আসেন। এরপর রাকিব দৌড়ে পালিয়ে যান।
ফেরদৌসের স্ত্রী সাদিয়া জানান, একমাস আগে ফেরদৌসের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তার স্বামীর সঙ্গে রাকিবের ভালো বন্ধুত্ব ছিল। তাদের মধ্যে আগের কোনো শত্রুতা ছিল কি-না তা তিনি জানেন না।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, 'প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রাকিব জানিয়েছে, ফেরদৌস ও তার মধ্যে সমকামিতার সর্ম্পক ছিল। ফেরদৌস বিয়ে করলে রাকিব মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার চিকিৎসা চলছিল। এ কারণে ফেরদৌসের ওপর তার ক্ষোভ ছিল। ক্ষোভ থেকেই ফেরদৌসকে হত্যা করেছে সে।'